
হদয়ের কী হয় : লিওনার্ড কোহেন
[Happens to the Heart গানের বাংলা সংস্করণ]
নিজের কাজে অবিচল সারাদিন
বলিনি কখনো তাকে শিল্প
জিনিসগুলো গুছিয়েছি
যিশুর সঙ্গে দেখা করে, আর মার্ক্স পড়ে
ভিতরে ছোট্ট আগুন নিভে গেছে
মৃতপ্রায় ফুলকিশিখা তবু উজ্জ্বল
যুবক মেসিয়াকে বলে দিও
হৃদয়ের কী হয়
গ্রীষ্মদিনের চুমুগুলো কুহেলিকা
আমি জায়গা খুঁজেছি দাঁড়ানোর
আমাদের রেষারেষি ছিল নির্দয়
নারীরা যেখানে নিয়েছিল ভার
ওটা কিছু নয়, শুধুই লেনদেন,
তবু তা রেখে গেছে কদাকার দাগ
পুনরায় এসেছি দেখতে
হৃদয়ের কী হয়
মানুষের কাছে বিকিয়েছি পবিত্র তাবিজ
গায়ে চোখকাড়া বাহারি পোশাক
রান্নাঘরে ছিল নারী — যোনির লালসা,
আর উঠানে কালো চিতা
গুণী লোকজনের কয়েদখানায়
প্রহরীদের সঙ্গে হয়েছিল মিতালি
আমাকে তাই সাক্ষী হতে হয়নি
হৃদয়ের কী হয়
তার আগমন বোঝা উচিত ছিল,
মানচিত্র তো জানা পুরোটাই
তার দিকে তাকানো মানে ঝামেলা
শুরু থেকে যে-ছিল ঝামেলা
সুখী দম্পতির ভূমিকায় আমরা করেছি অভিনয়
ভূমিকাটি ভালো লাগেনি কখনো
ওটা না ছিল সুন্দর, না তাকে বলতে পারি নিগূঢ়
হৃদয়ের কী হয়
আর এখন ফেরেশতার হাতে বেহালা
শয়তানের হাতে বীণা
প্রতিটি আত্মা যেন খুদে মাছ
প্রতিটি মন যেন হাঙর
প্রতিটি জানালা আমি ভেঙেছি
ঘর … ঘর তবু অন্ধকার …
সামান্যই করেছি পরোয়া
হৃদয়ের কী হয়
এক ভিখারির কাছে তারপর নিয়েছি দীক্ষা
নোংরা ভিখারি, চামড়ায় আঁচড়ের দাগ
অগণিত নারীর নখরে ক্ষতবিক্ষত
যাদেরকে সে ব্যর্থ ছিল উপেক্ষায়
কোনো গল্প নেই সেখানে, না ছিল শেখার কিছু,
না ছিল কোনো গানের বুলবুলি
নোংরা ভিখারি এক, অনুমানের চেষ্টায়
হৃদয়ের কী হয়
নিজের কাজে অবিচল সারাদিন
বলিনি কখনো তাকে শিল্প
আর পাঁচটা পুরোনো রীতি যেমন,
ঘোড়ার পেছনে গাড়ি জোড়ার মতোন
বাজি ধরতে সমস্যায় পড়িনি
বন্যার পক্ষে, আর নৌকার বিপক্ষে
দেখো, পরিশেষ জানা ছিল
হৃদয়ের কী হয়
বন্দুকে হাত ছিল পাকা
বাবার ওই পয়েন্ট থ্রি জিরো থ্রি
চূড়ান্ত কিছুর জন্য লড়েছি
শুধু অসম্মতি জানানোর অধিকারের জন্য নয়
. . .

সংযুক্তি
গানের নবি লিওনার্ড নর্মান কোহেনের গানভাণ্ডারে একবার প্রবেশ করলে সেখান থেকে সহসা বেরিয়ে আসা কঠিন হয়। স্পিরিচুয়াল বিউটি বা মরমি সৌন্দর্যের মায়াবি ফাঁদে শ্রোতাকে আষ্ঠেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলেন কোহেন। গিটার হাতে তিনি একালের মন্ত্রদ্রষ্টা ঋষি! এক-একটি গানে মর্মরিত উচ্চারণ বৈদিক মন্ত্রের মতো আমাদের ক্ষতবিক্ষত সত্তাকে নিজের দিকে ফিরতে বলে।
তাঁকে শুনতে বসে মনে হয় বটে,—আমরা অসুস্থ;—ব্যাধি ও পীড়ায় জর্জরিত দেহ নিয়ে নিরাময়ের অপেক্ষায় দিন গুনছি। কোহেন হলেন স্থিতপ্রাজ্ঞ ওঝা। তাঁর ভারী কণ্ঠ থেকে গমক দিয়ে উঠবে মন্ত্র; আর আমরা রোগশোকে জীর্ণরা উঠে দাঁড়াব, পুনরায় পাশ ফিরবো জঙ্গম জীবনের দিকে। ‘মনে হয় বটে…’ কথাটি এ-কারণে বলছি, একই কোহেন তাঁর জাদুকরি কোটের আস্তিন থেকে একে-একে যেসব মন্ত্র বের করতে থাকবেন, তার কোনোটাই উপশমের জন্য নয় নিবেদিত। না তিনি এই লক্ষ্যে স্থির-যে, আমরা উঠে দাঁড়াব ও পাশ ফিরবো পুনরায়।
অদ্ভুত তাঁর কোটের আস্তিনে লুকানো শব্দজাল! সহজ পরিচিত শব্দ দিয়ে বোনা গানের চরণগুলো অভিশাপের মতো আমাদেরকে মনে করিয়ে দিতে থাকবে,—মহাভারতের ভীষ্মের মতো আমরাও তীরবিদ্ধ দেহ নিয়ে শরশয্যায় মরণের কাল গুনছি। যেখানে কোনো সান্ত্বনাই যথেষ্ট নয়। এই অনুভব বরং নিবিড় সেখানে,—ভীষ্মের মতো আমরাও কেবল পারি নিজেকে বর্ণনা করতে, আর এই বর্ণনাই পারে ক্রমাগতভাবে আমাদের সত্তা ও অস্তিত্বের গভীরে তাকাতে।
কোহেনের ভারী কণ্ঠস্বর থেকে বেরিয়ে আসা গানের পঙক্তিরা কাজেই মরমি পরিচর্যায় আমাদের নিঃশ্বাসকে সহজ করে তোলে না, তারা বরং ঘন করে আক্ষেপ ও চোরা ক্রোধ-যে,—আমরা ইতোমধ্যে পতিত ও নির্বাসিত। সিসিফাসের মতো পাথর ঠেলে পাহাড়ের চূড়ায় তুলছি। পরক্ষণে পাথর গড়িয়ে পড়ছে নিচে। আবার ঠেলে তুলছি তাকে চূড়ায়। খেলাটি অন্তহীন। যেমন অন্তহীন আমাদের হৃদয়ে লিওনার্ড কোহেনের মন্দ্র কণ্ঠ চিরে বেরিয়ে আসা গানের চরণ।
অন্যরা ভিন্নমত পোষণ করতে পারেন। বলতেই পারেন,—কোহেন কী-কারণে তবে ঈশ্বরের বন্দনায় নিবেদিত হিব্রু শব্দ হালাল্যুয়ি (Hallelujah) নিয়ে গান বাঁধেন গিটারে? কেন তবে নবি দাউদ যে-শব্দে বাঁধাই হয়ে অবিরত ঈশ্বরের শরণ মেগেছেন শত্রুর থেকে আত্মরক্ষায়, এখন একই শব্দকে কোহেন ফেরত আনছেন আজকের এই সন্দেহ ও অবিশ্বাসের ঘন অন্ধকারে বিদীর্ণ যুগবিশ্বে? যেখানে প্রতিটি মানুষের মুখের দিকে তাকালে মনে হয় ঈশ্বর স্বয়ং অভিশাপ দিচ্ছেন নিজেকে!
এর উত্তর এক-একজনের কাছে এক-একরকম হবে হয়তো। আমি অধমের কাছে পুরাকালের প্রফেট ডেভিড ওরফে নবি দাউদ তাঁর বীণা একালের গায়ক-নবি লিওনার্ড কোহেনকে দান করলেও, সেই বীণায় ‘হালাল্যুয়ি’ হিব্রু শব্দটিকে অবিরত অবিরত সারগামে সুরেলা করা ছাড়া আর কোনে প্রাপ্তি থাকতে নেই। গায়ক নবি যে-কারণে বলতে বাধ্য বটে …
Your faith was strong but you needed proof
You saw her bathing on the roof
Her beauty and the moonlight overthrew you
She tied you to a kitchen chair
She broke your throne, and she cut your hair
And from your lips she drew the Hallelujah
নবি দাউদ ছিল অবোধ বিশ্বাসে স্থির। সেখানে থাকেনি সংশয়ঘন প্রত্যয়-যে,—তাঁর বীণায় বাঁধা হালাল্যুয়ি যাঁর জন্য নিবেদিত, সে চিরকাল পর্দার আড়ালে থাকবে উদাসীন! যাঁর আশিস থেকে তাকে থাকতে হবে বঞ্চিত! দাউদের মনে কখনো এই প্রশ্ন নেই,—তাঁর বীণার ঝঙ্কারে বেজে ওঠা কলরব বৃথা! কোহেনের মধ্যে প্রশ্নটি গভীর।
যেখানে তাঁর কাজ দাঁড়াচ্ছে অবশেষে, আর তা হলো,—হালাল্যুয়ি শব্দটিকে গিটারের স্ট্রিংয়ে শক্ত করে বেঁধে শরশয্যায় শায়িত একালের ভীষ্মদের দিকে ছুঁড়ে দেওয়া। এটাই একালের আধ্যাত্মিক সান্ত্বনা। একালের বিশ্বাস। নিরাময়-অযোগ্য এ-যুগের মানবাত্মা যেটি একমাত্র পারে ও তাকে পারতে হয় তা হলো,—হালাল্যুয়ির সুরঝঙ্কারকে ক্রমাগতভাবে নিজের মধ্যে প্রবেশ করতে দেওয়া। সুরটি কুহকি। ট্রয়ের যুদ্ধ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ইউলিসিস যেমন পড়েছিল কুহকিনীর খপ্পরে! কোহেন যে-কারণে বলছেন অবলীলায় :
I’ll stand before the Lord of Song
With nothing on my tongue but Hallelujah
কেউ মানেন বা না-মানেন, আমার কাছে কোহেন এক অশান্ত আত্মা। তিনি প্রশান্ত ও উপশমযোগ্য কোনো নবি না থেকে হয়ে উঠছেন The Book of Disquiet-এর কবি ফার্নান্দো পেসোয়ার মতো নীলকণ্ঠ। সমুদ্র মন্থন শেষে মহাদেব শিব কিন্তু গরল পান করেছিলেন, কোনো মণিমুক্তারত্ন জোটেনি তাঁর ভাগে।
কোহেনও গরল পান করেন গানে; এবং তাতেই তিনি অন্তত আমার কাছে একালের হর হর মহাদেব! তাঁকে বলতে পারি, হে গানের নবি, দুঃখ ও অশুভে আমরা জর্জরিত, তোমাকে বলছি না, তুমি ধ্বংস করো অশুভ, দূর করো সন্তাপ। তুমি বরং এমন একখানা গান গাও, যে-গান শ্রবণে আমাদের সত্তা ও অস্তিত্ব বুঝতে পারে আমরা কোথায় আছি, আর কেমন এই পুরোহিত কঙ্কালের পাশাখেলা! যেন এভাবে আমাদের আত্মা হয়ে ওঠে শক্তিশালী পাহাড়,—যাকে নড়ানো স্বয়ং ঈশ্বরের অসাধ্য মনে হবে।

লিওনার্ড কোহেনকে এই জায়গায় দাঁড়িয়ে আমি আনিনা তাহিন নেভিলার মতো ‘ইনসান-ই-কামিল’ বলে ভাবি। কোহেনের ‘Happens to the Heart’-এ বাঁধাই গানের চরণগুলো শ্রবণের অভিজ্ঞতাকে বাংলার মেয়ে নেভিলা তাঁর মতো পাঠ করেছিলেন ফেসবুকে। তাঁর সঙ্গে চিন-পরিচয় নেই। চেনা বলতে প্রবাস যাপন করছেন এরকম একজনা। মুখ ঢেকে রেখে ফেসবুকে মাঝেমধ্যে ছবি ছাড়েন, আর ভালোবাসেন পাহাড় ও জঙ্গলে ক্যাম্পিং। মাঝেমধ্যে নার্ভের অস্থিরতায় সম্ভবত তাঁকে পেয়ে বসে, আর আচমকা তাঁকে নিখোঁজ হতে দেখি সমাজমাধ্যম থেকে। নেভিলা এভাবে যাপন করেন নিউইয়র্কে তাঁর দিনরজনি। যেখানে, ‘Happens to the Heart’-এ মর্মরিত বার্তা তাঁর কাছে মানবমনে সক্রিয় ‘ইগো’ ও ‘অল্টার ইগো’র ক্লান্তিকর লড়াই হয়ে ধরা দেয়।
গানটি, কোহেনের আরো অনেক-অনেক গানের মধ্যে চাবি, যেটি দিয়ে তাঁর সুদীর্ঘ গানযাত্রার সারার্থ হয়তো আমরা অনেকখানি বুঝে ওঠা সম্ভব। যাকগে, গানটির বাংলা ভাষান্তরের পেছনে নেভিলার পাঠ-অনুভব হয়তো তাড়না হিসেবে কাজ করেছে। তাঁর কাছে কৃতজ্ঞতা।
গানের আসলে ভাষান্তর হয় না। আমরা তবু ভাষান্তর করে নেই অর্থ বোঝার খাতিরে। বাংলায় হোক অথবা ভিনদেশি, এরকম গান আছে প্রচুর এবং প্রচুর… যেখানে কেবল শোনার সম্মোহন যথেষ্ট নয়, সারার্থ বোঝার তাগিদ থাকে বটে! বব ডিলান ও আরো অনেকের মতো লিওনার্ড কোহেন সেই গোত্রে পড়ছেন। যদিও, তাঁর কোনো একটি গান আজ-অবধি বাংলায় ভাষান্তরযোগ্য বলে মনে হয়নি কখনো। জন লেনন কিংবা বব ডিলানকে তাও কায়ক্লেশে ভাষান্তর করা যায়, কোহেনে তা দুরূহই থেকে যায় শেষাবধি।
তথপি, অনেকে করেছেন জানি। কবি ও গদ্যকার জাহেদ আহমদ ডিলান, লেনন ও কোহেনের গানভাণ্ডার থেকে অনেকগুলো বেছে নিয়ে গানপার-এ ভাবানুবাদে পেশ করেছেন। জাহেদের ভাষান্তর মূলত বাংলা কবিতার ধাঁচে করা ভাবানুবাদ; এবং অনেকক্ষেত্রে বাংলায় পরিবেশন নয় সম্ভব।
আমি কবি নই কোনো। না ইচ্ছে আছে কবিত্ব জাহিরের। কবিতা নামে মাঝেমধ্যে যেগুলো লিখি, সেগুলো হয়তো মনোলোগ। নিজের সঙ্গে কথা বলার ভিন্ন পরিসর খুঁজে নেওয়া নিজের মতো করে; যখন টানা গদ্য লেখার চাপ মনে ক্লান্তি আনে। সুতরাং, কোনো প্রত্যাশা নেই কী দাঁড়াল অবশেষে।

কোহেনের ‘Happens to the Heart’ গানটি ঠেকায় পড়ে করেছি তর্জমা। আক্ষরিক ও ভাবানুবাদের মাঝামাঝি জায়গা নিয়েছি বেছে। তাঁর গানের পঙক্তি নয় বব ডিলানের মতো কাব্যিক। হার্শ রিয়েলিটি বরং উচ্চকিত থাকে গীতধর্মী গানের কথায়। যেখানে ঢুকিয়ে দিতে থাকেন জটিল রূপক। যেমন ‘Happens to the Heart’-এর একটি স্তবকে গানের নবি বলছেন অবলীলায়, আটপৌরে ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করেই বলছেন :
I was selling holy trinkets
I was dressing kind of sharp
Had a pussy in the kitchen
And a panther in the yard
Had a pussy in the kitchen ইংরেজিতে সরাসরি যে-হার্শ রিয়েলিটি বোঝাচ্ছে, এখন একে বাংলায় ভাষান্তর কার্যত অসাধ্য। করতে গেলে শব্দকে ভাবানুবাদে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। বাংলায় pussy-র লোকচলতি বুলি খিস্তি অর্থে প্রয়োগ সম্ভব নয়। সুতরাং ‘রান্নাঘরে ছিল নারী — যোনির লালসা,/ আর উঠানে কালো চিতা’;—এহেন ভাষান্তরে হার্শ রিয়েলিটি হ্রাস পায় অনেক। এরকম বিস্তর সমস্যা গানটির ভাষান্তরে পাঠক পাবেন। আশা করি মার্জনা করবেন তা।
ক্ষমাসুন্দর চোখে দেখবেন এআইকে দিয়ে করানো এর সাংগীতিক সংস্করণকেও। লিওনার্ড কোহেনের মূল সংস্করণ চির অমলিন। একে ছোঁয়ার সাহস দুঃসাহস হয়ে থাকবে চিরকাল। আমি সেদিকে ভুলেও পা বাড়াইনি। বাংলায় কেবল গানটিকে শুনতে চেয়েছি অন্য আঙ্গিকে। মূলত সে-কৌতূহল থেকে করা, যেখানে এআই মডেলকে দিয়ে উচ্চারণগত ঝামেলা পোহাতে হয়েছে বিস্তর! সুরের সঙ্গে শ্বাসাঘাতের লয়তালে এআই অ্যালগরিদম ঝামেলা পাকিয়েছে ফিরে-ফিরে। অনেকগুলো সংস্করণ থেকে দুটি বেছে নিয়ে পেশ করছি এখানে।
দুটি সংস্করণকে সুতরাং সিরিয়াসলি নেওয়ার কিছু নেই। আমাদের মনোযোগ কেন্দ্রীভূত থাকুক কোহেনের মূল গানে; আর আমার-করা সংস্করণ শোনা যেতে পারে তাঁর থেকে সম্মানজনক দূরত্ব বজায় রেখে। এটুকু বলার ছিল। জয় হোক গানের নবি কোহেনের। যিনি আমাদের সময়ে ছিলেন ‘ইনসান-ই-কামিল’।
—আহমদ মিনহাজ
. . .

পুনঃ সংযুক্তি
গানের ‘I had no trouble betting/ On the flood, against the ark‘-এ লিওনার্ড কোহের তাঁর স্বভাববশত ফেরত যাচ্ছেন বিবলিক্যাল রেফারেন্সে। নূহ নবির সময়ে আদিষ্ট মহাবন্যা ও নৌকার কাহিনির অনুরণন আনছেন গানের চরণে। চ্যাট জিপিটির সঙ্গে এই ব্যাপারে লম্বা কনভারসেশন শেষে তার সাজেশন এখানে মেনে নিতে বাধ্য হয়েছি।
আমার করা অনুবাদের সাংগীতিক সম্ভাবনার জায়গাটি তাকে পরখ করতে দিয়ে পড়েছিলাম মুশকিলে। তার আপত্তি ছিল, কেন আমি গানযোগ্য পরিবেশনায় কোহেনের মতো সরাসরি বন্যা ও নৌকার রেফারেন্স না টেনে অযথা কাব্যিক করতে চাইছি। ওটা উচিত নয়। জিপিটি মাঝেমধ্যে গোঁয়ারের মতো তর্ক করে, যদিও তা কাজে দেয় অনেকসময়। তার প্রস্তাব কাজেই মেনে নিয়েছি নতশিরে।
দুটি সংস্করণের মধ্যে শব্দগত ভিন্নতা আছে গানের পঞ্চম স্তবকের ‘It ain’t pretty, it ain’t subtle’ চরণের subtle শব্দের ভাষান্তর করেছিলাম ‘সূক্ষ্ম’। এআই মডেল উচ্চারণে ঝামেলা পাকাচ্ছে দেখে করতে হলো ‘নিগূঢ়’। দুটির কোনোটাই মূল ভাবার্থের সঙ্গে ভালো খাপ খায় না। তথাপি ‘সূক্ষ্ম’ ও ‘নিগূঢ়’ উভয় উচ্চারণে দুটি সংস্করণ পেশ করছি এখানে। উচ্চারণগত সীমাবদ্ধতা, বিশেষ করে বাংলা যুক্তাক্ষরে এআইয়ে এখনো কমবেশি প্রকট। অবশ্য, মানবকণ্ঠেও বাংলা যুক্তাক্ষর অনেকসময় ঝামেলা করে। এই ধরনের আরো কিছু ত্রুটি মার্জনা করে শোনার আর্জি থাকছে সবার কাছে।
. . .
. . .



