ভোট-কবিতা ও অন্যান্য
মোহাম্মদ জায়েদ আলী

ভোটের কবিতা
ভোট আসে—
দেয়ালে আঁকে চওড়া হাসির ছায়াপট,
চকমকে প্রতিশ্রুতি গিলে নেয় পুরনো দাগ।
আমরা দেখি—
একই হাসি ছাপা হয় বারবার
শুধু মুখ বদলায়,
বাকিটা থাকে একই আলগা রঙে আঁকা।
বুকের ভিতর জমে বিক্ষোভ—
না-দেখা আগ্নেয়গিরির মতো,
জমে, পাথর হয়, ফোটে না শব্দে।
নীরবতা ভোট দেয়—
আঙুলে নীল কালি, মুখে স্থবির আস্থা।
আর আমরা বিশ্বাস করি—
পরিবর্তন আসবে, একদিন,
যেন ঘড়ির কাঁটা হঠাৎ বিপরীত দিকে ঘুরবে।
. . .
নগরের নীলদাগ
না-ঘুমোনো চোখে
প্লাস্টিকের ঘুম বুকে নিয়ে
নগরী জেগে ওঠে।
রাস্তায় ঢেউ খেলে যায়—
মানুষ ও যানবাহনের জোয়ার,
হর্নের শব্দে ধাক্কা খায় ক্লান্তি।
রিকশা আর রাগে ফুঁসে ওঠা রিকশাওয়ালা,
জ্যামে আটকে থাকে শহরের হৃৎপিণ্ড।
ঘড়ি বলে—ছুটতে হবে।
কিন্তু সময় কি থেমে বসে কখনও?
নাকি অফিসের চেয়ারে
সে নিজেই ক্লান্ত হয়ে ঘুমোয়?
আবার সন্ধে নামে
রাত গভীর হয়,
কংক্রিটের বুক নিঃশব্দে কাঁদে,
কিন্তু শোনে না কেউ।
. . .

সূর্যের আশায়
বসে থাকি সূর্যের আশায়।
আলোর কোনও নির্দিষ্ট ঠিকানা নেই জানি…
আকাশ মেঘ ও কুয়াশা গিলে ফেলে
আমি গিলি কত চুপচাপ সকাল-দুপুর;
আর
ঘড়ির কাঁটা ঘোরে,
জানালার ধারে আলো থেমে থাকে।
সূর্য নিজের পথেই হাঁটে—
বুকে ভরসা জাগে…
কিন্তু
সূর্যটা যদি আর না আসে?
বসে থাকি সূর্যের আশায়…
হয়তো একদিন
তোমার ছায়ার ভিতরেই
সে আলো হয়ে উঠবে।
. . .
সততা
লোকটি হেঁটে চলে ধুলো-কাদা পথ,
নামে তার যেন—ভুলে যাওয়া রথ।
চোখে নেই ঝলক, মুখে নেই গান,
তবু ভিতরে তার পাথরের প্রাণ।
রাস্তায়, বাজারে দাঁড়ায় সে চুপ,
নেই তার পসরা, নেই স্বর্ণরূপ।
লোকে তো চায় মোহ ও মিথ্যে ছল,
লোকটি দেয় না কিছু, দেয় শুধু জল।
যখন দেয় মালা, মাথা নত হয়,
যখন দেয় গালি, হাসি তার রয়।
সততার বোঝা বয়ে চলে কাঁধে,
বুকে তার ক্ষত, চোখ কিছু চাঁদে।
লোকটি পায় ক্ষত, পায় না সে নাম,
তবু তার চোখে জ্বলে সত্য ধাম।
সমাজ দেয় দাগ, সমাজ দেয় শাপ,
তবু সে বুকে রাখে আলোর খাপ।
. . .
বৃষ্টি
বৃষ্টি নামে, কারণ সে নামতেই জানে,
মেঘ বোঝে না কারও অপেক্ষা থাকে।
তুমি দাঁড়িয়ে —
হাত বাড়িয়ে ছুঁতে চাও বিন্দু বিন্দু জল।
জীবনও এমনই তো —
যা আসে, তাকে ঠেকানো যায় না সব সময়।
কেবল ভিজে নেওয়ার সাহস লাগে,
ভিজে গেলে— শরীর ভিজে,
ভিতরে জন্মায় নরম কিছু শব্দহীন গান।
. . .
. . .

লেখক পরিচয় : ছবি অথবা এই লিংক চাপুন
. . .



