
. . .

এই গানটা আমাদের এই বঙ্গে এত দরদে আর ভালোবাসায় কেউ গাইতে পারেনি। ছোটবেলায় সাগর সেনের ভার্সন শুনেই শিউরে উঠতাম, যতটা দূরে পর্যন্ত উঠতে পারতাম… তারপর আর কেউ পারেনি ওঠাতে…
. . .

ঠাকুরের গানে জয়তীর গায়কি অসামান্য মানিয়ে যায়। রবি ঠাকুরের গান যেখানে একাকীত্বের হাহাকারকে বাঙ্ময় করে তোলে, সেখানে বাদ্যযন্ত্র যত কম বা পরিমিতি হয়, ততই কানে পশে অধিক। মনেও। এখানে বাজানোর আধিক্য কিন্তু ছিল তাহসিন ভাই। জয়তী বলেই উতরে গেছেন। অন্য শিল্পী হলে হয়তো সমস্যায় পড়তেন।
রবি গানের মূল চাবি দরদ ও সমর্পণ। শান্তিদেব ঘোষ, পীযূষকান্তি সরকার বা কলিম শরাফীর মধ্যে আমরা তা তীব্রভাবে পাই। যেমন পাই দেবব্রত বিশ্বাসের গাওয়া সিংহভাগ গানে। ‘নয় নয় নয় এ মধুর খেলা’ গানটি পীযূষ গেয়েছেন কোমল করে, দেবব্রত উদাত্ত। দুটোই ডিভাইন লাগে শুনতে।
এরকম, পূজা পর্যায়ের গানে কণিকা আমার কাছে এখনো বেস্ট মনে হয়। সুচিত্রা মিত্রও ভালো গাইতেন। জয়তীর কণ্ঠে এখন গানটি যে-অনুভব দিয়ে যাচ্ছে, তার কাছাকাছি (পুরোটা নয় অবশ্যই) অনুভব শ্রাবণী সেনে মনে হয় পাওয়া যায়। আমার ভালোই লাগে শুনতে। শ্রাবণীও দরদ আর নিবেদন দিয়ে গান করেন। তিনি ও পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তীর কন্যা কৌশিকা মিলে কয়েকটি রবিগান ডুয়েটে গেয়েছিলেন। ওস্তাদি গানের লয়তানের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ। ভালো লেগেছিল শুনে।
. . .

আপনার কান এড়ানো মুশকিল মিনহাজ ভাই। ঘটনা আদতেই সত্য যে, জয়তীর এই ভার্সনে প্রথম অন্তরার পরে সঞ্চারিতে যাওয়ার আগে বেশ অহেতুক ঢাকঢোল আসীন রয়েছে এই কম্পোজিশনটিতে; যেটা কিনা আমারও অনেক ভালো লাগেনি। তবে বাদবাকি… পুরোটাই ভালোবাসা…
. . .

জয়তীর গায়কি এতটাই ম্যাচিউরড তাহসিন ভাই, উনি বাধা কাটিয়ে গাইতে জানেন। রবি ঠাকুর নিজে তাঁর গানে বড়ো একটা যন্ত্র বাজুক, তা সবসময় চাইতেন না। এমনকি হারমোনিয়াম শুনেছি তাঁর পছন্দের বাদন হয়ে উঠতে পারেনি। ওই ভারতীয় বীণা জাতীয় বাদ্য, সঙ্গে বাংলার খোল-করতাল ইত্যাদি প্রিফার করতেন রবি। মূলত গলার ওপর রাখতেন ভরসা। শান্তিদেবকে হয়তো এ-কারণে চেপে ধরতেন প্রায়শ। কণিকা ও সুচিত্রাকে নিজেই ডিক্টেট করতেন। তবে, সিনেমায় তাঁর গানে ছাড় দিতেন, যেহেতু সেখানে প্রেক্ষাপট পৃথক।
রবি ঠাকুর যেহেতু স্বরলিপি করলেন ওইসময়, গানের কথার এদিক-সেদিক তাঁর ভালো লাগত না বিশেষ। একমাত্র পঙ্কজকুমার মল্লিককে তাঁর কণ্ঠস্বর ও গায়কির অপূর্বতার কারণে এলাউ করেছিলেন। সিনেমায় দৃশ্যের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে ঠাকুরের গানে একটি শব্দ পঙ্কজ সম্ভবত বাদ দিয়ে অথবা বদলে গাইতে চাইছিলেন। রবীন্দ্রনাথকে এখন কে যাবে বলতে! কারো সাহস নেই। পঙ্কজ অগত্যা নিজে ছুটলেন শান্তিনিকেতন।
তাঁকে পেয়ে রবীন্দ্রনাথ মহা আনন্দিত। রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে বসেছিল গানের আসর। পঙ্কজ গানটান করলেন রবি ঠাকুরের। তারপর ফাঁক বুঝে শব্দ নিয়ে ঝামেলার আলাপ পাড়লেন। রবি ঠাকুর কিছুক্ষণ মৌন থেকে বললেন,—তুই গাইছিস, এজন্য সম্মতি দিলাম। তোর যদি মনে হয় ভালো হবে, তা হলে করতে পারিস।
একালে রবিগান আমরা কত-না রকমফেরে গাইছি। সবটা খারাপ হচ্ছে তা বলা যাবে না। বৈচিত্র্য ও ব্যাপকতা মোটের ওপর যুগানূকূল। এছাড়া নতুন প্রজন্মের কাছে রবিগানকে পৌঁছানো কঠিন হতো। রবীন্দ্রনাথ একালে বেঁচে থাকলে বিষয়টি বুঝতেন বলেই মনে হয়। যুগের ভাষা পড়বার ধীশক্তি তাঁর ছিল। মনে-মনে কষ্ট পেতেন হয়তো, তবে দিনশেষে মেনে নিতেন বলে ধারণা করি।
সিনেমার ব্যাপারে তাঁর অন্তর্দৃষ্টি প্রখর ছিল। রাশিয়া গেলেন। আইজেনস্টাইনের ছবিটবি তাঁকে দেখানো হলো। তখনই বুঝেছিলেন,—এটি যেহেতু দৃশ্যমাধ্যম, এর ভাষায় স্বকীয়তা অন্যরকম হওয়াটা অনিবার্য। সাহিত্যের কাছে দাসখত লিখে দৃশ্যভাষা যেন পরিচালক তৈরি না-করেন;—এক পত্রালাপে নিজের এই অভিমত রেখেছিলেন।
মূলত এ-কারণে আমাদের এখানে তারকোভস্কি বা গোদারের জন্ম আজো দুরাশাই থেকে গেছে। সিনেমার ভাষাকে আমরা পুরোপুরি অবমুক্ত করতে পারিনি। মাধ্যমটি সমবায়ী হলেও নিজস্ব এক ভাষায় কথা বলে থাকে। রবীন্দ্রনাথে কাছে এটি ছিল দৃশ্যের অবমুক্তি, যেখানে সাহিত্যে বিচরণ করা সত্ত্বেও এর থেকে সে নিষ্কৃতি নিয়ে নেয়। নিষ্কৃতির নেওয়ার তাৎপর্য একালে এমনকি অনেকে বোঝেন বলে মনে হয় না।
. . .

না বলে পারলাম না যে, আমার কিন্তু পপ আঙ্গিকের ভঙ্গিতে রবি ঠাকুরের গান বেশ ভালোই লাগে।… মনে আছে যেমনটা সোমলতা গেয়েছিল অল্টার রকের ভঙ্গিতে?
. . .

কেবল পপ নয় তাহসিন ভাই, নির্ভেজাল রক মেজাজেও-যে সবসময় খারাপ লাগে শুনতে, তা কিন্তু নয়। রবীন্দ্রনাথ তো আসলে এমন সামগ্রী, তাঁকে নানাভাবে ভাঙা জরুরি হয়ে দাঁড়ায়। ঠাকুরের গানের ভাণ্ডারে বিচিত্র গান যেহেতু রয়েছে, একালের মেজাজ বুঝে নিরীক্ষা হতে পারে ও হওয়া উচিত।
উত্তীর্ণ নিরীক্ষার সংখ্যা কম নয় সেখানে। ঋতুপর্ণ ঘোষ করেছেন। কিউ ওরফে কৌশিক তো ‘তাসের দেশ’-এ রবিকে ভেঙে নতুন করে গড়েছেন। দক্ষিণ ভারতীয় গায়িকা সুশীলা রামানকে দিয়ে গোপন কথাটি যেভাবে গাইয়েছেন, ওরকম ডার্ক অ্যাম্বায়াস ও সেকক্সচুয়াল ডিজায়ারের মিশ্রণ… চমকে উঠতে হয়।
হিন্দুস্তানী তানবাজির সঙ্গে কেন জানি রবীন্দ্রনাথের গান ভালো যায় না! ওস্তাদ রশীদ খানের সঙ্গে নচিকেতার ডুয়েট অনেকের বেশ পছন্দের, আমার মন বসে না শ্রবণে। শ্রাবণী ও কৌশিকা অথবা সুচিত্রা মিত্রের সঙ্গে ওস্তাদ আলী আমজাদ খানের বাদন আবার এদিক থেকে পারফেক্ট ছিল। শ্রবণে আরাম বহায় যথেষ্ট।
রবীন্দ্রনাথ একালে বেঁচে থাকলে এই ধরনের নিরীক্ষা বা সংগীত আয়োজন ঠিকই অনুমোদন করতেন। সময়ের ভাষা পড়ার ক্ষমতা তাঁর ছিল। পঙ্কজকুমারকে যে-কারণে তখন ছাড় দিয়েছেন। আরো দিতেন হয়তো। ঋতুপর্ণ তো সম্যন্তককে দিয়ে শরৎ তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলি আরবান মেজাজে দিব্যি গাইয়েছিলেন। আমার কাছে ভালো লাগে শুনতে। এটি ছিল ‘গানের ওপারে’-র ব্যানারে ঋতুপর্ণের অন্যতম ক্রিয়েটিভ আর্টওয়ার্ক।
. . .

হ্যাঁ, তাহসিন ভাই, খুব ভালো মনে আছে তা। পার্নো মিত্র ও সোমলতা, ইন্যফ্যাক্ট অঞ্জন দত্তের ভালো আবিষ্কার ছিল। রঞ্জনা আমি আর আসব না ছবিতে বোধহয় প্রথম সোমলতাকে গাইতে শুনি। এর আগে তাঁকে শোনা হয়নি। রবীন্দ্রনাথকে খাঁচা থেকে বের করার আদি প্রয়াস তো আমাদের এখানে মাকসুদ নিয়েছিলেন প্রথম। সাধু উদ্যোগ। কিন্তু, মাকসুদের ডেলিভারি তখন অতটা ভালো লাগেনি। মনে হয়েছিল, রবিগানের মর্মে প্রবেশ না করে বাইরে ঘুরছেন তিনি। তুলনায় বরং শিরোনাহীনের তুহিনরা অনেকখানি সফল হলেন পরে। আর, সোমলতার কণ্ঠই এমন, রবিগানের মধ্যে নতুন এক মাদকতা তৈরি করায়। এই ফিলটা দরকারি ছিল। তবে রবীন্দ্রনাথকে যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করেছে ওপার বাংলার সিনেমাশিল্প। কথাবার্তা নেই, একছটাক রবিগান ঢুকিয়ে দিত যখন-তখন। এটি আবার ভালো লাগত না বেশিরভাগ সময়। এখন বোধহয় ভূত কিছুটা নেমেছে।
. . .

আহারে…! আমি তো গানের ওপারে-র কথা ভুলেই গেছিলাম। স্টার জলসার মনে হয় একটাই সিরিজ ছিল যেটা আমি দেখেছিলাম। তখনই পপ-রবিগানের সথে ঘটা করে একটা পরিচয় আর ভালোবাসাও জন্মায়। এই সিরিজের প্রত্যেকটা গানই আমার-যে কী ভীষণ ভালো লেগেছিল!
কৌশিকের অন্যান্য সিনেমা অত ভালো না লাগলেও, তাসের দেশ ওইসময় অনেক ভয়াবহভাবে আমার পছন্দের সিনেমা ছিল। আর হ্যাঁ, সম্যন্তক সিনহা সানি ও শর্মিষ্ঠা পালের প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম ঋতুপর্ণের এই সিরিজ দেখে।
. . .

ঋতুপর্ণের চলে যাওয়াটা অনেক বড়ো ক্ষতি ছিল। রবীন্দ্রনাথকে নতুন করে আবিষ্কার ও চেনানোর জায়গাটি তাঁর হাত দিয়ে তৈরি হচ্ছিল তাহসিন ভাই। নিজের ছবিতে রবিগান জোড়ার ক্ষেত্রেও সেন্স অব পারফেকশন অন্য লেভেলের ছিল এই লোকটার। ‘গানের ওপারে’ ছিল পছন্দের অনুষ্ঠান। ভাবলে নস্টালজিক করে দেয়।
হ্যাঁ, শর্মিষ্ঠা পালের প্রতি ফ্যাসিনেশন অনেকেরই ছিল তখন। আর, কৌশিকের অ্যানার্কিস্ট মেজাজ আসলে তাসের দেশ-এ সবচেয়ে ভালো কিক করেছিল। পরের ছবিগুলো, বিশেষ করে হিন্দিতে যাওয়ার পর উনি তালজ্ঞান ঠিক রাখতে পারেনি। গ্যাসপার নুই’রা যে-মাত্রার এক্সটিম মুভি বানায়, সেগুলোর জন্য ওই মাত্রার জীবনধারা থাকতে হয়, অন্যথায় অ্যানার্কি স্রেফ অ্যানার্কি হয়েই থাকে। আলাদা কোনো মাত্রায় পৌঁছাতে পারে না। মনে হতে থাকে, অকারণে পর্দায় দেখছি এসব! কৌশিকে এই প্রবলেমটা আছে! সত্যজিৎদের উনি ডিনাই করছেন ভালো কথা, কিন্তু উপমহাদেশের কনটেক্স তো বুঝতে হবে আগে। যে-কারণে কৌশিকের ছবিগুলো নেটফ্লিক্স আর কান-এ আটকে গিয়েছে।
এরচেয়ে আদিত্য বিক্রম সেনগুপ্ত ও প্রদীপ্ত ভট্টাচার্যকে আমার কাছে অনেকবেশি অর্থবহ লাগে। আদিত্য হয়তো বেলা টার থেকে অনেকক্ষেত্রে নিচ্ছেন, কিন্তু সেখানে তাঁর স্বকীয়তা ও মানবআত্মাকে ধরার চেষ্টা মন ছুঁয়ে যায়। মায়ানগর-এ (Once Upon A Time In Calcutta) যে-মর্বিড কলকাতা, এবং সেখানে রবীন্দ্রবৃত্তে মধ্যবিত্তের পিষ্ট হওয়া ও সমভাবে রবীন্দ্রনাথকে পিষে মারা,—কৌশিকের চেয়ে আদিত্য বরং অনেক গভীর আবেদনে তুলে ধরেছিলেন সিনেপর্দায়।
. . .

গ্যাসপারের এন্টার দ্য ভয়েড ভালোই লেগেছিল। কিন্তু, অনেক আগের স্মৃতি; কিছুই মনে নেই। তবে তার ‘লাভ’ সিনেমাটা আমার ভালো লেগেছিল, অন্তত যে-আইডিয়াটা কোনোট করতে চেয়েছিল; তবে অতিরিক্ত পোর্ট্রে করে ফেলেছিল, যেমনটা করে আর-কী সবসময়।
. . .

কৌশিকের প্রসঙ্গে আরেকখান কথা বলতে ভুলে গেছি তাহসিন ভাই। উনি যে-অ্যনার্কিটা তাঁর ‘গাণ্ডু’ ইত্যাদিতে নিয়া আসলেন, সেটি কলকাতার বাস্তবতায় হয়তো ওয়ার্ক করে অনেকখানি, কিন্তু সত্যিকার Raw জিনিস বরং বাংলাদেশে করোনাটাইমে আমরা ‘শাটিকাপ’ ও ‘সিনপাট’-এ পাইছি।
মোহাম্মদ তাওকীর ইসলাম ওই-যে একেবারে অপেশাদার অভিনেতাদের নিয়ে রাজশাহী শহরের পেটের ভিতরে বসে ওয়েব সিরিজটা বানালেন,—কাহিনি, সিনেমাটোগ্রাফি, ল্যাঙ্গুয়েজ ও অ্যনার্জির দিক থেকে এইটা দশে দশ পাওয়ার মতো কাজ ছিল। শাটিকাপ, সোজা কথায় লা-জবাব লেগেছিল দেখে!
রাজশাহী যেহেতু গেছি, পদ্মা-তির-ঘেঁষে পুরো সিনারি তাওকীর যেভাবে তুলে এনেছিলেন, তার সঙ্গে Raw Acting আর Rap মিলে খুব ভালো অভিজ্ঞতা দিয়ে যায়। অনেকবেশি অনেস্ট ছিল শাটিকাপ ও সিনপাট। কৌশিকে ওই ম্যাজিকটা নাই, বরং ফাও আঁতলামি আছে অনেকখানি। যদিও, একসময় তাঁকে নিয়ে লিখেছি মুগ্ধতা থেকে। এখন সেই ফিলটা বেঁচে নেই। একমাত্র তাসের দেশ (রবিকে নতুন করে ভাঙার কারণে) এখনো পছন্দের লিস্টে আছে।
. . .

এই আমি কিন্তু শাটিকাপ বা সিনপাট;—কিছুই দেখি নাই। তবে আপনি যেভাবে বললেন, তবে দেখতেই হবে…
. . .

এন্টার দ্য ভয়েড আমারও ভালো লেগেছিল। বিশেষ করে শেষের লং সিকোয়েন্সটা, যেখানে মানবভ্রূণের জার্নিটা উনি ধরেছিলেন। গ্রাফিক্স অসাধারণ ছিল। তবে তাঁর ওই বিমানবিক বিষয়াদি ইত্যাদি, বিশেষ করে ক্লাইম্যাক্স ছবিটা নিয়ে হাইপ মারাত্মক। আমি পুরোটা দেখতে পারিনি আজো!আমাদের প্রেক্ষাপটে বসে এরকম ছবির সঙ্গে সংযোগ করা কঠিন। এখানে ক্রুড রিয়েলিটি হয়তো আছে, গ্যাসপারকে তা এক্সটিম মুভির দিকে নিয়ে যায়,—তবে আমার কখনো সংযোগ হয়নি ভালো করে!
. . .

অবসরে (অন্তত শাটিকাপ) দেখতে পারেন তাহসিন ভাই। মূলত সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান ও মাদক ব্যবসাকে উপজীব্য করে নির্মিত। থ্রিলার মেজাজের কাজ। এর নতুনত্ব এখানে-যে,—তাওকীর রাজশাহীর একদল নাট্যকর্মীকে দিয়ে পুরো ছবিটা (ওয়েব সিরিজ আকারে) বানিয়েছিলেন। তাদের অভিনয় এখানে আগাগোড়া Raw, এবং তা ওয়ার্ক করেছে ভালো। দৃশ্যচিত্রও খুব চমৎকারভাবে ধরেছেন, বিশেষ করে লং শর্টগুলো দারুণ। মাদক পাচার ও চোরাচালান নিয়ে হাইড অ্যান্ড সিক, মানে ওই চেজিংয়ের সিনগুলা একইসঙ্গে রুক্ষ ও জীবন্ত। কোনো আড়ম্বর বা বানোয়াট কিছু নেই। আর, এর সম্পদ হচ্ছে অমার্জিত ভাষা, যেটি কোনো ফিল্টার ছাড়া নির্মাতা ছবিতে রেখে দিচ্ছেন। সব মিলিয়ে ভালো কাজ।
‘সিনপাট’ও বেশ-বেশ ভালো! তাওকীর সম্ভবত পুনে থেকে সিনেমা বানানোর তরিকা রপ্ত করেছিলেন প্রথমে। তবে তাঁর কাজের মধ্যে বাংলাদেশ বা ওপার বাংলার কারো ছাপ আমি পাইনি। আমার ধারণা, আপনাকে আশাহত করবে না। Rawness-টা এখানে এতোটাই জীবন্ত ও সবাক,—সেটাই টেনে নিয়ে যায়।
. . .

ধন্যবাদ ভাই। আজকের মত গুডনাইট। কথা হবে আবার…
. . .
. . .



