দেহকে ঘিরে রাহুল পুরকায়স্থর ফ্যান্টাসিঘন টানাপোড়েন, আর, তাকে ফিরে-ফিরে অনিকেত টের পেয়ে সমাধিফলক লিখে ওঠার চেষ্টায় দেশভাগের যন্ত্রণা মনে হচ্ছে বড়ো অবিচ্ছেদ্য ছিল! তাঁর বাংলাদেশী কবিবন্ধুরা রাহুলের হৃদযন্ত্রে কান পেতে কখনো শুনেছেন কি সেই রক্তক্ষরণ?
-
-
অশুভ কি আসমানি কেবল? মোটেও তা নয়। ওজির প্রতিটি গানের চরণে পরিষ্কার বিঘোষণ পায় শ্রোতা :—অশুভ বাস করে আমাদের অন্তরে; এবং অধিকতরভাবে সমাজ ও রাষ্ট্রের পরিসীমায়। আমাদের বানিয়ে তোলা জীবনধারায়;—যেখানে আলোকায়নের মধ্যে সংগোপন থাকে ফুকোর মানব। সংগোপন থাকে নির্দয় যত পীড়ন, শোষণ, আর নরকতুল্য নিয়ন্ত্রণ ও নির্ধারণের ইতিহাস। স্বাধীন ইচ্ছার ঠাঁই মানবধরায় হয়নি কখনো। না কেউ অন্তরতম নিখাদ উচ্চারণ ‘ভালোবাস’-র দেখা পেয়েছে কোনোদিন।
-
সিলেট অঞ্চলে বাউলা গান সিলসিলা কেন্দ্রিক নয়, বরং গ্রামীণ জনসমাজে সহজাত পন্থায় চর্চিত হওয়ার ঐতিহ্যে তা গরিয়ান। বাংলাদেশের যে-বিবর্তন এখন দেখছি আমরা, সেখানে এ-কথা ভেবে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ রয়েছে,—সিলেট অঞ্চলের আপামর শ্রেতাসাধারণ দীর্ঘকাল যেভাবে এই বাউল মহাজনদের গানকে স্বেচ্ছায় লালন ও ধারণ করেছেন, —সেটি আগামীতে কঠিন হতে চলেছে।
-
কোনো জাতিকে স্মৃতিহীন করার পয়লা কদম হচ্ছে স্মৃতি মুছে ফেলা। বইগুলো ধ্বংস করো, তার সংস্কৃতি ও ইতিহাস গুঁড়িয়ে দাও। তারপর নতুন কেউ নতুন বই লিখবে। নতুন সংস্কৃতি পয়দা করবে, নয়া ইতিহাস লিখবে। জাতি ভুলে যেতে বসবে সে কে ছিল বা অতীতে কী ছিল পরিচয়। ক্ষমতার বিরুদ্ধে মানুষের সংগ্রামের অর্থই হচ্ছে বিস্মৃত হওয়ার বিরুদ্ধে সংগ্রাম।