কটি গানকে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে লম্বা সময় ধরে গাইতে থাকেন উম্মে কুলসুম। একটাই গান এভাবে ফিরে-ফিরে গেয়ে চলার সময় গানের মেজাজ খুব-যে পালটায় তা নয়, কিন্তু শ্রোতা তথাপি নিবিষ্ট হয়ে শুনে চলে। নির্দিষ্ট কোনো স্তবক অথবা চরণ ঘুরেফিরের বারবার গাইবার সময় শ্রোতার এরকম মনে হয়,—ধ্বনিব্যঞ্জনা এখানে অন্তহীন সময় ধরে বইছে, এবং এই প্রবাহন বন্ধ না হলে ক্ষতি নেই। গলার খাঁজভাঁজ থেকে বেরিয়ে আসা গানকে এভাবে অপূর্ব সম্মোহন বিস্তারের মাধ্যমে গাওয়ার ক্ষমতা সত্যিই বিরল!
-
-
আমাদের কাছে আকরাম খান বিশিষ্ট মূলত দেশ-এর কোরিওগ্রাফির জন্য। প্রায় সাত-আট বছর আগে এই পরিবেশনায় আমরা এমন এক শিল্পীকে দেখি,—যিনি বাংলাদেশের সংক্ষুব্ধ যাতনা ও লড়াইয়ের মধ্যে মিশিয়ে দিচ্ছেন শিকড়ের প্রতি দরদ ও টান। অনেকদিন পর দেশ দেখতে বসে মনে হলো, প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির হাতে দেশকে স্বেচ্ছায় তুলে দিতে থাকা আমাদের মতো মেরুদণ্ডহীন হতভাগাদের জন্য আকরাম খানের এই পরিবেশনা এখন আরো বেশি প্রাসঙ্গিক।
-
জিংগার হয়ে ও একলা কণ্ঠে গান গেয়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা নাজমা জামানকে এসব কারণে বাংলাদেশের প্রথম পপ-কুইন হিসেবে আমরা বিবেচনায় রাখতে পারি। ববকাট চুলের সঙ্গে আবেদনময় মুখশ্রীর শিল্পী আশির দশক মাতিয়ে রেখেছিলেন পুরোটা। বিটিভির অপরিহার্য তালিকায় ঢুকে পড়া নাজমা জামান ও তাঁর দলের শ্রোতাচাহিদায় কমতি ঘটেনি কখনো।
-
সৃষ্টি এখানে কেবল তাঁর অনন্যনির্ভর গুণের বিচ্ছুরণ। আলাদা করে এক-একটি গুণের সাহায্যে স্রষ্টাকে দায়বদ্ধ চিহ্নিত করা স্বয়ং তাঁর একত্বের বরখেলাফ। মানব জগতে ভালোমন্দ যা কিছু ঘটছে, এর সঙ্গে তাঁকে জড়িত করা যুক্তিসংগত নয়। তিনি হলেন আবশ্যিক অনন্যতা;—যেখান থেকে সৃষ্টির সূচনা ও বিস্তার ঘটছে। এই শর্তের বাইরে তাঁর কোনো ভূমিকা নেই।
-
এসব কার্যকারণে সিলেট অঞ্চল সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে ফকিরে পরিণত হয়েছে। লোকসমাজের পাশাপাশি শিক্ষিত ও সংস্কৃতিমনস্ক শাহরিক সমাজ এই অঞ্চলে একদিন গড়ে উঠেছিল। কালের ধারায় সেখানে ছেদ পড়েছে। ইংরেজ ও পাকিস্তান আমলে বিকশিত শিক্ষিতশ্রেণিতে যারা ছিলেন, আজকে ওই মান ও উচ্চতার বিদগ্ধ মানুষ তন্ন-তন্ন করে খুঁজলেও পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। আয়ুব শাহীর আমলে রানী এলিজাবেথের উপহার ভাউচার সিলেটকে ক্রমশ বদলে দিলো।