তাঁর কবিতায় নিশ্চয় এমন কোনো দ্রবগুণ রয়েছে, যে-কারণে বিশ্বের শতাধিক ভাষায় দ্য প্রফেট অনূদিত ও পঠিত হয়ে চলেছে! পাশ্চাত্যে মাওলানা রুমির পরে তিনি সম্ভবত সর্বাধিক পঠিত কবি। রুমির চেয়ে বেশিও হতে পারেন। এতো মানুষ যাঁর কবিতা পড়ছেন, সে তো এমনি-এমনি নয়;—নিগূঢ় ব্যঞ্জনা ও বোধির সাক্ষাৎ মিলছে দেখে পাঠ করছেন তাঁকে। এমন কোনো সান্ত্বনা হয়তো কাহলিল জিবরান মানুষকে দিতে পেরেছেন, যেটি প্রেমের দিকে, মানবিক বিভূতির দিকে, চিরন্তন মানবিক আভার দিকে মানুষকে ফেরত আসতে বলে।
-
-
আল-মুতানাব্বির কবিসত্তায় পরিবর্তনশীল কবিতার গুণ ছিল বলে মানছেন অ্যাডোনিস। যেমন ছিল ইসলাম পূর্ব যুগের কবি আবু তাম্মাম ও আবু নুওয়াসের মধ্যে। তাঁরা কোন সময়ের প্রতিনিধিত্ব করছেন,—অ্যাডোনিসের কাছে তা মুখ্য নয়। কবিতায় সঞ্চারিত গতিশীল আবর্তন হচ্ছে সেখানে একমাত্র বিবেচ্য বিষয়। কোনো যুগ-দশক-কালপর্ব নয়। ত্বহা হুসাইনের মতো অ্যাডোনিসও অকুণ্ঠ চিত্তে রায় দিচ্ছেন,—অন্ধকার যুগের কবিতারা ছিল প্রাণের সহজ প্রকাশ আর অকপট স্বীকারোক্তিতে গাঁথা ব্যক্তিসত্তার উন্মোচন। ইসলাম পরবর্তী কবিতারা ভান ও মেকিত্বে স্থবির জলাশয়।