এই জুবিন জীবদ্দশায় ফকিরির ভাও রপ্ত করেছিলেন। দূর ভবিষ্যতে সকল পরিচয় ছাপিয়ে ওই সন্ত-ফকির-দরবেশ রূপে মানুষ তাঁকে স্মরণ করবে ফিরেফিরে। মিথ এভাবেই তৈরি হয়, এমনকি সংকীর্ণতা ও বিভাজনের অন্ধকূপে নিমজ্জিত একুশ শতকেও!
-
-
কটি গানকে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে লম্বা সময় ধরে গাইতে থাকেন উম্মে কুলসুম। একটাই গান এভাবে ফিরে-ফিরে গেয়ে চলার সময় গানের মেজাজ খুব-যে পালটায় তা নয়, কিন্তু শ্রোতা তথাপি নিবিষ্ট হয়ে শুনে চলে। নির্দিষ্ট কোনো স্তবক অথবা চরণ ঘুরেফিরের বারবার গাইবার সময় শ্রোতার এরকম মনে হয়,—ধ্বনিব্যঞ্জনা এখানে অন্তহীন সময় ধরে বইছে, এবং এই প্রবাহন বন্ধ না হলে ক্ষতি নেই। গলার খাঁজভাঁজ থেকে বেরিয়ে আসা গানকে এভাবে অপূর্ব সম্মোহন বিস্তারের মাধ্যমে গাওয়ার ক্ষমতা সত্যিই বিরল!
-
আল-মুতানাব্বির কবিসত্তায় পরিবর্তনশীল কবিতার গুণ ছিল বলে মানছেন অ্যাডোনিস। যেমন ছিল ইসলাম পূর্ব যুগের কবি আবু তাম্মাম ও আবু নুওয়াসের মধ্যে। তাঁরা কোন সময়ের প্রতিনিধিত্ব করছেন,—অ্যাডোনিসের কাছে তা মুখ্য নয়। কবিতায় সঞ্চারিত গতিশীল আবর্তন হচ্ছে সেখানে একমাত্র বিবেচ্য বিষয়। কোনো যুগ-দশক-কালপর্ব নয়। ত্বহা হুসাইনের মতো অ্যাডোনিসও অকুণ্ঠ চিত্তে রায় দিচ্ছেন,—অন্ধকার যুগের কবিতারা ছিল প্রাণের সহজ প্রকাশ আর অকপট স্বীকারোক্তিতে গাঁথা ব্যক্তিসত্তার উন্মোচন। ইসলাম পরবর্তী কবিতারা ভান ও মেকিত্বে স্থবির জলাশয়।