গানের কথায় এই-যে সকল দুঃখ-সুখকে ত্বকের গভীরে রেখে দেওয়ার কথা আওরাচ্ছেন পল ম্যাককার্টনি, সেটি বিটলস-এর প্রায় সকল গানে অল্পবিস্তর বিদ্যমান। স্মৃতি হচ্ছে এমন সামগ্রী, যেটি মানুষকে অনুভূতশীল প্রাণী করে তোলে। হেই জুড-এ যারপরনাই জন লেনন ও সিনথিয়ার রসায়নকে ধরে রাখার বার্তা পল আসলে লেননপুত্র জুলিয়ানকে দিচ্ছেন। তারপর বলছেন আসল কথাখান : make it better.
-
-
বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহ সহিংসতাকে কেবল Banality of evil দিয়ে ব্যাখ্যা করলে সেটা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। আইখম্যানের মতো চিন্তাহীন আমলা এখানে অবশ্যই ছিল, যারা কেবল আদেশ পালন করেছে। কিন্তু পাশাপাশি ছিল মতাদর্শী পরিকল্পনাকারী, হিংস্র মব, ভয় সৃষ্টিকারী সন্ত্রাস, এবং সেই সন্ত্রাসের নিচে তৈরি হওয়া নিঃসঙ্গতা।
-
প্রকৃতি এক মহান শিল্পী, আর আমরা সকলে তার গর্ভ থেকে ধরায় ভূমিষ্ঠ হয়েছি। প্লুমস (Plumes) ওই-যে বব ডিলান থেকে আরো যত শিল্পীর গান পশুপাখিদের শোনালেন, সেখানে শব্দতরঙ্গে নিহিত স্বর ও সুরধ্বনির সবটা আদিতে তাদের কাছ থেকে মানুষের নেওয়া। তিনি এখন কেবল এর অতি উন্নত ও বৈচিত্র্যে বর্ণিল সংস্করণ নিয়ে হাজির হয়েছেন তাদের সামনে। তাদের মস্তিষ্ক এই শব্দকম্পনকে মিত্র বলে বুঝে নিতে ভুুল করেনি।
-
সংক্ষুব্ধ বাংলাদেশ টু নামক কিমাকার সময়ে এরূপ স্বচ্ছতার সঙ্গে, কাণ্ডজ্ঞানে জারি থেকে জানা কথাগুলো পুনরায় স্মরণ করতে বলা লোকজন সংখ্যায় কমতে-কমতে নেই হওয়ার পথে আছেন। জানি না, আশি-ঊর্ধ্ব বয়সে সফিউদ্দিন আহমদ এসব কতটা কী ভাবতে সক্ষম! তবে তাঁর মতো লোক, যাঁদেরকে আমরা একসময় ভক্তি অথবা ভীষণ ক্লিশে ভেবে পাত্তা দিতে নারাজ থেকেছি,— তাঁরা মনে হচ্ছে কাণ্ডজ্ঞানসম্পন্ন ও মানবিক ছিলেন!
-
কুমার চক্রবর্তী প্রশ্ন তুলেছেন। ভাববার মতো প্রশ্ন, তবে এর মধ্যে উঁকি দিচ্ছে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের পুরোনো বিরোধ;—যেখানে এরা আজো একজন আরেকজনকে বোঝা ও বিনিময়ের জায়গায় সবল দাঁড়িয়ে নেই। পাশ্চাত্য এখনো মোটাদাগে প্রাচ্যকে রোমান্টিসাইজ করে। নয়তো প্রাচ্যের ভাষা ও বয়নরীতির আগামাথা কিছু তারা ধরতে ও বুঝতে পারে না। ট্রাশ ভেবে বাতিলও করে হামেশা! প্রাচ্য আবার অনেকসময় অন্ধের মতো পাশ্চাত্য ন্যারেটিভকে নিজের ভাষায় ধার করতে যেয়ে অনুকরণে নিঃস্ব হয়। এটি সমস্যা। এবং এখানে এসে আমরা দেখি, দুই গোলার্ধ কমবেশি পুরাতনের পুনরাবৃত্তিতে অনেকটা নিঃস্ব।