
কেয়ার করি না
আমরা হালায় কেয়ার করি না
জন্মিলে মরিতে হইবে—
এইডা সত্য জানি।
এইডা সত্য জানি দোস্ত,
এইডা সত্য জানি।
দুনিয়া তামাশার কারখানা
মায়ের পেডে চলতাছে ভাই,
মরণের তামাশা—
মরণের তামাশা দোস্ত,
মরণের তামাশা।
এইডা বুইঝা লও,
মায়ের পেডে মরণ হালায়
লাগাইছে তামাশা—
তামাশা হালায়,
লাগাইছে তামাশা।
দুনিয়া বিলাই ইন্দুরের খেলা
জনমডারে মায়ের পেডে মরণ হালায়
ধরে এবং ছাড়ে—
ধরে এবং ছাড়ে দোস্ত,
ধরে এবং ছাড়ে …
রঙের দুনিয়া, সববাইতে গ্যাটিস মারে,
ভাতের লগে ফাউ খোঁজে দোস্ত,
সববাইতে খোঁজে …
ফুটানির উপ্রে চলতাছে তামাশা,
জানু ডার্লিং বাবু সোনার রঙিলা দুনিয়া।
খোমায় মাঞ্জা মাইরা আমরা হালায় ঘুরি—
বাইরে দেখতে ফিটফাট
মাগার্ ভিত্রে ঠনঠনা—
ভিত্রে ঠনঠনা আমরা
ভিত্রে ঠনঠনা।
ধান্ধা করি ভাতের লগে ফাউ—
বিবির লগে আলগা পিরিত,
বচ্ছর ঘুরলে খতম
বিবির খোমা লাগত মিঠা,
এহন লাগে তিতা
পরের বিবি দেখতে মিঠা,
এইডা দুনিয়ার রীতি—
ধান্ধা করি, গ্যাটিস মারি সবেতে,
ভাতের লগে ফাউ খুঁজি দোস্ত,
ভাতের লগে ফাউ…
ক্যামনে বুঝাই রঙের দুনিয়া—
সাধুর বেশে ডাকাতের কারখানা
খোদাতালা বানাইছে আজব ফ্যাক্টরি!
মরণের জোব্বা গায়ে চলতেছে ফকিরি—
চলতাছে ফকিরি দোস্ত,
চলতাছে ফকিরি।
তুমি হালায় বুইঝা লও তামাশা,
বেবাকতে আমরা ইন্দুর হালায়,
ফাউয়ের লোভে গ্যাটিস মারি,
বিলাইরে তোয়াজ করি—
বিলাইর পিছে কাটাই জিন্দেগি,
জিন্দেগি দোস্ত, কাটাই জিন্দেগি।
এইডা হইল আসল ব্যাপার,
বিলাইর থাবায় ইন্দুর-জান—
আমরা তবু গ্যাটিস নিয়া চলি,
মরণডারে করি না কেয়ার—
কেয়ার করি না দোস্ত,
করি না কেয়ার।
বুইঝা লও তুমি বাঁচোনের মন্ত্র—
দুনিয়া হইলো মরণের ফ্যাক্টরি,
মায়ের পেডে মরণ হালায়,
লাগাইছে তামাশা।
আমরা হালায় কেয়ার করি না,
কেয়ার করি না দোস্ত,
কাউরে কেয়ার করি না …
. . .
. . .

সংযুক্তি
Rap গানটি বাঁধতে বসে মন ফেরত যাচ্ছে পেছনে। আঙুলের গুনতিতে চার-পাঁচ বছরের কম হবে না, বলাকওয়া নাই হিপ-হপের নেশায় ধরেছিল হঠাৎ। দেশি-বিদেশি টানা শুনেছিলাম কিছুদিন। মানে অবশ্য এই নয়, আগে শুনিনি তেমন। সাব-কালচারের অঙ্গ রূপে হিপ-হপের সঙ্গে চিন-পরিচয় ম্যালা দিনের। হিপি-বিটনিক ও বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের জের ধরে রক ও হিপ-হপের প্রায় পাশাপাশি উত্থান আমাদের এখানে অনেকটা দেরিতে তরঙ্গ তুলেছিল, যদিও এর খবর এখানে আগেভাগে পৌঁছাতে দেরি করেনি।
বিদায়ী বিংশ শতকের নব্বইয়ের দশককে সন্ধিক্ষণ বলা যেতে পারে। মার্কিন ও সোভিয়েত পরাশক্তির লম্বা সময় ধরে চলমান স্নায়ুযুদ্ধের অবসান ঘটল এই দশকে এসে। দুনিয়া নতুন মেরুকরণের যুগে পা রাখতে চলেছে তা বুঝতে কারো বাকি থাকেনি। সমাজতান্ত্রিক ভাবাদর্শ ও শিবির বিভাজনের ভূমিধস পতন ঘটতেই বিগ প্লেয়াররা নতুন ফাঁদ পাতলেন। মুক্তবাজার অর্থনীতির জোয়ার এলো বিশ্বে। সংস্কৃতির সীমানা তাতে নতুন আদল নিলো ক্রমশ। গরিব বাংলাদেশের সাধ্য নেই এর বাইরে যাবার! স্যাটেলাইট টিভির কল্যাণে আকাশ সংস্কৃতির জোয়ার উঠেছিল দেশে। নব্বইয়ের কালপর্ব এরকম বিবিধ কারণে স্মরণীয় যুগ-সন্ধিক্ষণ বটে!
রক, পাঙ্ক-রক ও পপ গানের বৈচিত্র্যময় ব্যাপ্তির সঙ্গে জান পেহচান নিবিড় হতে থাকে সকলের। আরবান সাব-কালচারের দ্যোতক হিপ-হপ সেখানে পিছিয়ে থাকেননি। বৈচিত্র্যের ডালি নিয়ে তিনি হাজির হলেন স্যাটেলাইট বাহিত টিভিতরঙ্গে। Rap গানের নতুন স্বর্ণযুগ মার্কিন ভূমিতে ততদিনে জন্ম নিয়েছে। এর ঢেউ এখানে আছড়ে পড়েনি তা বলা যাবে না। বাংলা ভাষা যদিও রক-পপের নতুনত্বে তাল মিলিয়ে ব্যান্ড সংগীতে বিস্ফারিত হচ্ছিল ব্যাপক, তথাপি হিপ-হপের পেট চিরে বেরিয়ে আসা গানবাজনা নীরবে তরুণ প্রজন্মের কানে জায়গা নিচ্ছিল। পরের দশকের মধ্যপর্বে এসে বাংলায় জোরেশোরে নিজের অস্তিত্ব জানান দিয়েছিল সে।
হিপ-হপ বলতে আমরা সরাসরি Rap আঙ্গিকে গানবাজনাকে বুঝে নিয়েছি;—বাস্তবে Rap সেখানে অন্যতম শাখা, কিন্তু একমাত্র নয়। দেয়ালচিত্র/গ্রাফিতি থেকে শুরু করে হাজারো উপায়ে নিজের অধিকার ও অস্তিত্ব জানান দেওয়ার তাগিদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কালো মানুষরা যেসব সাংস্কৃতিক উপকরণ অবিরাম ব্যবহার করেছেন বিভিন্ন সময় ও নতুন রূপে সেগুলোকে সৃজন করেছেন এ-পর্যন্ত,—তার বৃহৎ অংশ হিপ-হপের কাতারেেই পড়বে।
ষাটের দশকের অন্তিমে ভিয়েতনাম যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হিপি-বিটনিক আন্দোলনের জোয়ার উঠেছিল। জোয়ারটি সেখানে রকগানের অকল্পনীয় উত্থানকে সুদৃঢ় করে। বৃটেন থেকে আটলান্টিক মহাসাগর পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রকগানের ঝড় আছড়ে পড়েছিল একদিন;—হিপি-বিটনিকের মধ্য দিয়ে তা এবার নিজেকে পূর্ণতা দানের ভাষা খুঁজে নিলো।
১৯৬৯ সনে উডস্টক ফ্যাস্টিভ্যাল ছিল রকারর্সদের সাংস্কৃতিক বিদ্রোহের আনুষ্ঠানিক ঘোষণ। প্রোক্লেমেশন অব রক কালচার বললেও ভুল হয় না খুব একটা। ওই কালপর্বে মার্টিন লুথার কিং ও ম্যালকম এক্সদের বর্ণবাদ বিরোধী ম্যানিফেস্টোর সাংস্কৃতিক মুখপত্র হওয়ার মিশন পূর্ণ করতে উডস্টকের পাশাপাশি নিউ ইয়র্কের হার্লেমে টানা এক হপ্তা কৃষ্ণাঙ্গরা একটি সংগীত উৎসবের আয়োজন করেন। উডস্টকের চেয়ে শানমান ও গরিমায় কোনো অংশে কমতি ছিল না এর। উডস্টকে তখন দলে-দলে লক্ষ-লক্ষ শ্বেতাঙ্গ যুবক-যুবতী ঘরবাড়ি ছেড়ে কেবল বিশ্ব-শান্তির আর্তনাদ মুখরিত বার্তায় বিদীর্ণ রক গানের প্রোক্লেমেশনে একাত্ম হতে সেখানে ক্যাম্প গেড়েছিলেন। হার্লেমেও প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষের ঢল নামছিল, কিন্তু প্রচারের আলো পায়নি তেমন। বর্ণবাদ কবলিত গণমাধ্যম তা উপেক্ষা করেছিল স্বেচ্ছায়।

এতে অবশ্য কিছু যায় আসেনি। হার্লেমে কৃষ্ণাঙ্গদের আয়োজনটি ছিল হিপ-হপের বহুবর্ণিল প্রবল উত্থানের বার্তা। বার্তাটি পরে টুপাক শাকুর, রাকিম, স্নুপ ডগ, আইস কিউব-এর মতো অতিকায় apper-এর উত্থান নিশ্চিত করে। Gangsta Rap-এর সূচনারম্ভও বলা যায় একে। নব্বইয়ে এসে তা দুই দশক ধরে জন্ম দিতে থাকবে নোটোরিয়াস বিআইজি, ফিফটি সেন্ট, ন্যাসদের মতো Rapper-এ ঠাসা স্বর্ণযুগের।
এমনকি হিপ-হপে একচ্ছত্র কৃষাঙ্গ আধিপত্যের মধ্যে আমরা পেয়ে যাবো ডেট্রোয়টের এইট মাইলের বখে যাওয়া চৌহদ্দি থেকে উঠে আসা এমিনেম আর Psychedelic Rap-কে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়া অকালপ্রয়াত লিল পিপের মতো শ্বেত যুবার দেখা। কৃষ্ণাঙ্গদের একচ্ছত্র সাম্রাজ্যে জায়গা করে নেওয়াটা এই দুজনের জন্যই চ্যালেঞ্জিং ছিল বৈকি। Rap-এ প্রতিপক্ষকে কথার বানে ঘায়েল করতে ডিস (Diss) মারাত্মক চলে। এমিনেমকে এর চাপ হজম করার পরীক্ষা দিয়ে তবে জায়গা করে নিতে হয়েছিল।
এরা সবাই সেই জীবনসংস্কৃতির অংশ, জীবন যেখানে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে সবসময় তিক্ত ও নির্দয় থেকেছে। বখে যাওয়া ও পুলিশের তাড়া খাওয়া আর মাদক ও বন্দুক বিনে বাঁচার উপায় নেই। মার্কিন হিপ-হপ যে-কারণে জীবনের সেই অন্ধকারকে অবলীলাক্রমে তুলে ধরে সবসময়, যেটি এমনকি রক, পপ, পাঙ্কের পক্ষেও ধারণ করা সবসময় সম্ভব হয়নি।
বালাদেশে Rap গানের যাত্রারম্ভে ফকির লাল মিয়া, স্টোইক ব্লিস, জালালি সেট বড়ো ভূমিকা নিভিয়েছেন; যদিও এর প্রতিধ্বনি নচিকেতার গানে শুধু নয়, নব্বইয়ের মাঝপর্বে বাংলাদেশ থেকে বেরুনো অ্যলবামেও পাওয়া যাবে। ব্যান্ড গানের জোয়ারে ভেসে যাওয়ার কারণে প্রতিধ্বনিতে কান দেওয়ার মেজাজ তখনকার তরুণ প্রজন্মের ছিল না।
যাইহোক, সবিস্তারে আপাতত যাচ্ছি না। চার-পাঁচ বছরে আগে অনলাইন মুখপত্র গানপার-এ বাংলায় হিপহপ শিরোনামে তিন পর্বের ভূমিকাধর্মী নিবন্ধে বিশ্ব মানচিত্রে বাংলা Rap-এর বিবর্তনযাত্রা অনুসরণ ও অবধানের চেষ্টা ছিল। দেশি-বিদেশি Rappers নিয়ে কিছু তাৎক্ষণিক রচনাও জন্ম নিয়েছিল এই সুবাদে। গানপার-এ যেহেতু এর সবটাই তোলা আছে এখনো, আগ্রহীরা সেখানে মনে চাইলে হানা দিতে পারেন।
মোদ্দা কথা, আমাদের এখানে গানের এই ধারাটি বড়ো সম্ভাবনা নিয়ে গোড়ায় হাজির হলেও পূর্ণতা পায়নি। এই গানে বিশ্বজুড়ে পরে যেসব বিচিত্র ঘরানার আমদানি ঘটে, বাংলা Rap গানে তার প্রসার সেভাবে ঘটেওনি। রক-পপ আশ্রিত ব্যন্ড গান যেমন বিরাট হতে-হতেও শেষ পর্যন্ত পথ ও খেইতাল হারিয়েছিল,—Rap-এর বেলায়ও তা ঘটেছে। ফলত, এই গানে একচ্ছত্র সিলেটি Rappers ও অন্যরা সময়ের সঙ্গে প্রাসঙ্গিকতা তৈরিতে মোটা দাগে ব্যর্থ বলা চলে।

প্রচুর Rap গান আমরা এখনো পাচ্ছি, কিন্তু সেখানে সূচনার সাংস্কৃতিক জাগরণের আভাস নিখোঁজ মানতে হয়। এমতাবস্থায় গানের এই বিশেষ ঘরানার প্রতি ভালোবাসা ও অনুরাগ থেকে গানটি লেখা। Rap আসলে চরিত্র ও স্বভাবে ভীষণ জৈবিক বা অর্গানিক। সোজা কথায়, যাপন থেকে তা উঠে আসতে হয়। এই খামতি বাংলা Rap-কে বেশিদূর আগাতে দেয়নি। যাপনের বাইরে গান হতে পারবে না তা নয়, তবে যাপনের সঙ্গে তার ব্যবধান ও দূরত্ব থেকেই যাবে। এখানে কাজেই Rap-কে ভিন্ন আঙ্গিকে ব্যবহার করে যুগ-প্রাসঙ্গিক ভাষা দানের ভাবনায় গমন করা প্রয়োজন।
এই জায়গা থেকে বলব,—‘গানালেখ্য’-এ সংযুক্ত Rap গানটিকে গুরুতর মনে করার কারণ নেই। তবে, এআইকে দিয়ে ভালো Rap গান করানো সম্ভব বলেই মনে হয়েছে। আমি যেহেতু ফ্রি ভার্সন নিয়েছি, কিছু সীমাবদ্ধতা সেখানে তারা রেখে দিয়েছে। Rap-এ বিট বক্সিং ও সিন্থেসাইজারের ব্যবহার যেমনটি চেয়েছিলাম, তার অনেকখানি অপূর্ণ থেকে গেছে।
EmoRap-এর রাজা রাকিম আমার পছন্দের। তাঁর স্কুলিংটি এখানে ব্যবহার করতে যেয়েও এআইকে বোঝানোর সীমাবদ্ধতায় বিফল হতে হয়েছে। সংযুক্ত তিনটি সংস্করণে অগত্যা Conversation Rap-এর আদল বজায় রেখে Drill, Trap ও Rap গানের অন্যতম আদি ঘরানার একটি Boom-bap-এর সংমিশ্রণে আবহ সাজাতে হলো। সংস্করণের একটিতে ফোক টিউন জুড়েছি গানের ভাবার্থে নিহিত বিষাদকে ধরার আশায়।
আমার কাছে ‘কেয়ার করি না’ শিরোনামে বিরচিত গানটি নিরীক্ষার অংশও বটে। আজকাল Rap এতোভাবে গাওয়া হয়, অনেকসময় এর আদিচরিত্র খুঁজে পাওয়া যায় না। এখানে সংযুক্ত সংস্করণে মৌল চরিত্র ধরে রাখার চেষ্টা করেছি। ভালোমন্দ নিয়ে কোনো প্রত্যাশা নেই। খসড়া ধরে করা। পরে কোনোদিন পূর্ণতা পেতেও পারে। আশা করি সীমাবদ্ধতা আমলে নিয়ে শ্রোতারা শুনবেন ও ভুলত্রুটি মার্জনা করবেন উদারতায়।
—আহমদ মিনহাজ : অবদায়ক : থার্ড লেন স্পেস.কম
. . .
. . .



