‘দিওয়ান-ই-মাখফি’-র সিংহভাগ কবিতা অতি অবশ্যই জেব-উন-নিশার রচনা। কারণ, সেগুলোয় পিতা আওরঙ্গজেবের সঙ্গে তাঁর সংঘাত ও কারাবন্দিত্বের আভাস স্পষ্ট। সেইসঙ্গে কিছু কবিতায় ব্যক্তি/ স্থান/ ঐতিহাসিক চরিত্রের রেফারেন্স এমনভাবে এসেছে, পড়তে যেয়ে খটকা জাগে মনে। সেগুলো সম্ভবত ‘দিওয়ান-ই-মাখফি’-তে কোনো একভাবে ঢুকে পড়েছিল। এতো পুরোনো পাণ্ডুলিপি!—পরিষ্কার সিদ্ধান্ত টানা পাহাড়সমান গবেষণা দাবি রাখে।
-
-
যেখানেই থাকুন কবি, কবিতায় আর গানের টানে বোনা এই গানালেখ্যটি আপনার কাছে পৌঁছে যাবেই যাবে। জানবেন, আমরা আপনাকে আজো ভুলিনি। আপনি আছেন মনের তারায় অভিশাপ হয়ে। থাকবেন, যতদিন আমাদের আয়ু রয়েছে ধরায়। যতদিন, আমরা শিকার হইনি বিস্মরণের!
-
অমিয় চক্রবর্তীর ‘সংগতি’র একখানা সারমর্ম আমরা পেলাম এখন। শহীদ কাদরী অ্যানকাউন্টার টানলেন,—মেলানোর আশা সহজ প্রাকৃতিক হলেও কোনো অঙ্কই অদ্য আর মিলবে না। নাতিদীর্ঘও নয় কবিতাটি;—যদি অমিয় চক্রবর্তীর পাশাপাশি তাকে রাখি। তার মধ্যেই ধরা পড়েছে মানব-ইতিহাসের লক্ষ বছরের আবর্তন। ধরা পড়েছে তার অবিরত গড়িয়ে পড়ার হাস্যকর পরিহাস।
-
দিবারাতি তবু ঠোকাঠুকি হে মাবুদ, সোনালি ধানখেতে জবাই মানুষ রক্তের ছিটায় লাল মেঘের মিনার! চক্ষু মুদে তুমি কালঘুমে, উঠনের নাম নাই!
-
অতীতে এই আলাপ হয়েছিল বটে,—জীবনানন্দের টেক্সটকে প্রায় অবিকল ব্যবহার করে কবি ধরতে চাইছেন সেই সুর, যেটি এই সময়ে ঘনীভূত অন্ধকারের ওপর আলো ফেলবে। আমাদের মনের মাটিতে এভাবে জীবনানন্দের উসিলায় প্রতিভাত হবে ঘনিয়ে আসা অমাবস্যার দিনলিপি;—যেটি এখন চলছে, এবং এর অবসান কবে ঘটবে তা আপাতত সকলের অজানা।