শাক্যমুনি ওরফে গৌতম বুদ্ধের ‘প্রতিমায়ণ’ ও তার সাংস্কৃতিক বিবর্তন হঠাৎ আগ্রহ জাগিয়ে তুলেছিল। অনলাইনে এই ব্যাপারে খুঁজতে নেমে কিছু অবাককরা তথ্য সামনে হাজির হলো! ষড়যন্ত্র তত্ত্বের গোত্রে ফেলে এসব তথ্য খারিজ করা স্বাভাবিক প্রথা হলেও শাক্যমুনির শৈল্পিক প্রতিমা নির্মাণের ইতিহাসকে তা ভালোই ঝাঁকুনি দিয়ে যায়। কথায় আছে ‘History is written by the victors’—বুদ্ধমূর্তির যে-বিবর্তনরেখা আমরা ইতিহাসে গমন করলে পাচ্ছি, সেখানে বহুল প্রচারিত ইংরেজি প্রবাদ মনে উঁকি দিয়ে যায়।
আদি প্রতিমায় যে-শাক্যমুনি আভাসিত, সেখানে তিনি ঘোর কৃষ্ণবর্ণ। গায়ের রং ও মাথার চুল থেকে আরম্ভ করে মুখের গঠনে আফ্রিকা মহাদেশের ছাপ স্পষ্ট। হিমালয়ের কোলে যুগ-যুগ ধরে বসবাস করে আসা শাক্য গোত্রে তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা। প্রচলিত ইতিহাস ও বিশেষজ্ঞ-মন্তব্য গোত্রটির সঙ্গে আফ্রিকার সংযোগকে যদিও নাকচ করছে।

প্রতিষ্ঠিত বয়ান আমাদের জানায়,—শাক্য গোত্র ইন্দো-আর্য (বা ইন্দো-ইরানীয়) উত্তরাধিকার দেহে ধরে বিবর্তিত হয়েছেন ধরায়। সামাজিক মর্যাদায় শাক্যরা সূর্যবংশজাত ক্ষত্রিয়, অর্থাৎ যোদ্ধা বা রাজার জাত ছিলেন। ইউরোপীয় ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী ইরানের মালভূমি হয়ে ভারতবর্ষে প্রবেশের দিনক্ষণে সেখানকার স্থানীয় আদিবাসীর সঙ্গে তাদের সংযোগ ঘটে। সংকরায়ন আমলে নিয়ে অনেকে মত দিয়েছেন,—স্থানীয় মুণ্ডা আদিবাসীর সঙ্গে দূর অতীতে ডিএনএ বিনিময়ের সম্ভাবনা শাক্যরা রাখতেও পারেন। হিমালয়ের কোলে বসতি বিস্তার করলেও গায়ের রংয়ে মুণ্ডা গোত্রের ট্রেডমার্ক কৃষ্ণতার ছাপ আশ্চর্যের নয়। এটুকু বাদ দিলে আফ্রিকা (বিশেষ করে নীল নদের উজানে অবস্থিত সেকালের ‘কুশ’ বা বর্তমানের ইথিওপিয়ায় বসবাসরত ‘নুবিয়ানরা’) কোনো মানবগোষ্ঠীর উত্তরসূরি রূপে শাক্যদের ভাববার সুযোগ নেই।
হতে পারে! বিজ্ঞানের কল্যাণে অবশ্য এ-কথা মানতে হচ্ছে,—হোমো সেপিয়েন্স সেপিয়েন্সের উত্তরসূরি বর্তমান মানব প্রজাতি আফ্রিকা থেকে একদা ধরার এক-একটি কোণে ছড়িয়ে পড়েছিল। মানব প্রজাতির কুড়ি লক্ষ বছরের বিবর্তন-ইতিহাসে যেসব প্রজাতি ধরায় জন্ম নিয়েছে ও পরে বিবর্তনের লম্বা রেসে খাপ খাওয়াতে না-পেরে বিলুপ্ত হয় তারা,—তাদের অধিকাংশই আফ্রিকার সাভানায় বসবাস করত অথবা সেখান থেকে পরে অন্যত্র স্থানান্তরিত হয় অস্তিত্বরক্ষার তাগিদে। হোমো সেপিয়েন্স সেপিয়েন্স এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাগরপৃষ্ঠ নিচে নামতে থাকায় সাভানায় খাদ্য সংকট প্রবল হয়েছিল প্রায় ষাট হাজার বছর আগে। টিকে থাকা ও অভিযোজন বেগতিক দেখে তারা সাভানা ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে অজানায়। অস্ট্রেলিয়া হয়ে নানাদিকে ছড়িয়ে পড়তে থাকে দ্রুত। আমাদের ডিএনএ-লিপিতে মাইগ্রেশনের ইতিহাসটি লিপিবদ্ধ নেই তা বলা যাচ্ছে না।

সময়ের বিবর্তনে ডিএনএ-লিপি ফিরে-ফিরে পুনর্লিখিত হওয়ার কারণে পুরোটা অবিকল পাওয়ার সম্ভাবনা উবে গেছে। গুগল মামার পরিসংখ্যান বলছে,—বিবর্তনের ধারায় বর্তমান মানব প্রজাতির দেহে আফ্রিকায় বিবর্তিত বা স্থানান্তরিত বিলুপ্ত মানব প্রজাতির ডিএনএ পরিমাণে বেশি নয়; তথাপি কিছু-না-কিছু সংকেতে আফ্রিকা আজো জেগে। অতএব এ-কথা বলা যায়,—মানুষ মাত্রই আফ্রিকাকে ধারণ করছে দেহে। শাক্যরা কিছু ব্যতিক্রম নয় সেখানে।
প্রেক্ষাপট যদি আমলে নেই তাহলে শাক্যমুনি তথা সিদ্ধার্থ গৌতমকে আফ্রিকান ধরে নিলে মানহানি ঘটে না। তবে হ্যাঁ, জলবায়ু ও অঞ্চল ভিত্তিক বিবর্তনের কারণে তাঁকে সরাসরি আফ্রিকান বংশধারায় নির্দিষ্ট করা সম্ভব নয়। তিনি হিমালয়ের কোলে জন্ম নিয়েছিলেন, এবং তাঁর চলাচলের পরিধি ভারতবর্ষের নগররাষ্ট্রে থেকেছে সীমিত। বুদ্ধ স্বয়ং ও তাঁর ভিক্ষুসংঘের কেউ পরে আফ্রিকা গিয়েছেন বলে অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায় না। তিব্বত, চীন, জাপানকে পরিবেষ্টন করে ছড়ানো এশিয়া মহাদেশের মানচিত্রে তাঁরা সীমায়িত থেকেছেন। যেখানে, বুদ্ধের জন্মভূমি সেকালের ভারত (ও একালের নেপালেও) গৌতমবাণীর ঝাণ্ডা বহনের ধারায় পড়েছিল যবনিকা।
প্রশ্ন জাগে মনে,—আদি প্রতিমায় যে-বুদ্ধকে আমরা দেখতে পাই, তিনি তাহলে কে? তাঁর গায়ের রং, চুলের ধরন, মুখের গঠনের সঙ্গে পরবর্তী বুদ্ধমূর্তির আসমান-জমিন তফাত ঘটার পেছনে কি কারণ নিহিত তবে! এখানে এসে ক্ষমতা-রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক-পুনর্লিখনের এমন এক ইতিহাস উঁকি দেয়, আফ্রিকান স্টাডিজে লিপ্তজনরা একে সামনে আনার প্রাণপণ চেষ্টা করেও আজো সফল হতে পারেননি। বিশ্ব-যে গৌরবর্ণ শাসিত! গুগুল মামা থেকে আরম্ভ করে চ্যাট জিপিটি মহাশয়ারা শ্বেতকায় বটে!

তারা বেশ গোস্বা সহকারে ব্ল্যাক বুদ্ধার দাবি নাকচ করেন শত রেফারেন্স টেনে। কৃষ্ণবরণ বুদ্ধের বিষয়ে এই মত বহুল প্রচারিত,—তিমিরজয়ী ও জ্ঞানের উদ্ভাসনে আলোকিত শাক্যমুনিকে প্রতিমায় ধরার মানসে গান্ধারাসহ ভারতবর্ষের অন্যান্য অঞ্চলে শিল্পীরা বুদ্ধকে কৃষ্ণতায় ঢেকেছেন। সেইসঙ্গে এ-কথা মিছে নয়,—বুদ্ধ মূর্তির ঐতিহাসিক বিবর্তনে গ্রেকো-রোমান রীতির প্রভাব প্রবল দৃষ্টে।
এরকম শত-শত রেফারেন্স সুতরাং হাজির হয় নিমিষে। এগুলো মিথ্যে নয়, আবার নির্জলা সত্যও নয় । বুদ্ধের কৃষ্ণায়নের আগ্রহ-উদ্দীপক অন্য বয়ান-যে থাকতে পারে, সেটি কেবল এর ভিতরে প্রবেশের পথ পায় না। আফ্রিকান স্টাডিজে সক্রিয়জনরা যতই বুদ্ধ প্রতিমায়নে আফ্রিকার সংযোগ প্রতিষ্ঠায় মরিয়া চেষ্টা করুন,—নিজের দাবিকে তারা ভালোভাবে প্রতিষ্ঠা দিতে ব্যর্থ সেখানে।
সবটাই পাওয়ার ও ডোমিনেশন থেকে ভূমিষ্ঠ ন্যারেটিভের খেলা ভাবলে বোধহয় অতিরঞ্জন হয় না। শাক্য মুনির আফ্রিকান সুরতে লেখা প্রতিমায়নের ইতিহাসকে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বলে নাকচ করা অতএব রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে! যেটুকু জানা গেল তাতে যদিও ‘নাকচ’ করার এহেন মানসিকতাকে বেশ আপত্তিকর মানতে হয়। কৃষ্ণ বুদ্ধ বা ব্ল্যাক বুদ্ধাইজমের তত্ত্ব যাঁরা সামনে এনেছেন নানান সময়, তাঁরা কিন্তু কখনো এই দাবি করেননি,—গৌতম বুদ্ধ বা তাঁর পূর্বপুরুষরা আফ্রিকান ছিলেন। এমনকি এই দাবিও না-যে,—তাঁর আদি পুরুষ আফ্রিকা থেকে হিমালয়ে স্থানান্তর নিয়েছিলেন। তাঁরা কেবল এটি প্রমাণের চেষ্টা করেছেন,—সেকালের গান্ধার ও মথুরায় অবয়ব-সহ বুদ্ধমূর্তি গড়ার কালপর্বে শিল্পীদের ওপর আফ্রিকার প্রভাব গভীর ছিল। প্রতিমা তৈরির শিল্পরীতিতে মিশরে অমিত প্রভাববিস্তারী নুবিয়ান শিল্পরীতির ছাপ বুদ্ধ মূর্তিতে আছে বটে।
বলা প্রয়োজন, গৌতম বুদ্ধের মূর্তি গড়ার রীতি তাঁর দেহান্তরের পরপর গড়ে ওঠেনি। প্রথমদিকে বৌদ্ধসংঘ ব্যবহৃত অনুষঙ্গ (যেমন চক্র ইত্যাদি) ব্যবহার করতেন শিল্পী ও কারিগররা। সময়ের সঙ্গে বুদ্ধ প্রচারিত দর্শন মতবাদ-এ মোড় নেয়। একে কেন্দ্র করে হীনযান, মহাযান, সহজযানের শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে পড়ে শাক্যমুনি প্রচারিত বাণী। প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর পাল্লায় পড়ে ভাবুক বুদ্ধ হয়ে উঠলেন মানুষের উপাস্য ভগবান। সংগতকারণে তাঁর সমাহিত ধ্যানী অবয়বের প্রতিমায়নকে কল্পনায় আত্মস্থ করা অনিবার্য হয়ে ওঠে। আদিযুগে গড়ে ওঠা বুদ্ধ মূর্তিতে নুবিয়ান শিল্পরীতির ছাপ প্রকট হতে থাকে সেইসময়, যেটি ততদিনে মিশরে দারুণভাবে স্বীকৃত ও চর্চিত।

ওপরে সংযুক্ত ছবিতে আমরা গান্ধার রীতিতে নির্মিত বুদ্ধকে পাচ্ছি, যেটি এখন লাহোর জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। সিদ্ধি লাভের প্রথম পর্যায়ে সাত বছরের কঠোর কৃচ্ছ্রতা সাধনের পর বুদ্ধ যে-অবস্থায় উপনীত হয়েছিলেন, গান্ধার শিল্পীরা তা ধরেছেন এখানে। মিশরীয় ফারাওদের মূর্তি ও অঙ্কনরীতি যদি খেয়াল করি, তাহলে বুদ্ধের এই প্রতিমায়ানে আফ্রিকার প্রভাব কেন আমলে নেওয়া হয় না, তা অধমের মাথায় ঢোকেনি।
ভূমধ্যসাগর ও ভারত মহাসাগরের রুট ধরে বাণিজ্য ছাড়াও নানাবিধ প্রয়োজনে অন্যান্য জাতি-গোত্রের মতো আফ্রিকানদের পদচারণা ভারতবর্ষে স্বাভাবিক ঘটনা ছিল। দ্রাবিড় সভ্যতার সঙ্গে যেমন আফ্রিকা থেকে আগতদের সংযোগ ছিল, বুদ্ধ ও পরবর্তী সময়জুড়েও ট্রেডরুট থেকেছে অমলিন। এর ফলে নুবিয়ান শিল্পরীতির সঙ্গে বুদ্ধের প্রতিমায়নে নিয়োজিতদের পরিচয় নিবিড় হওয়ার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কৃষ্ণ বুদ্ধ জন্ম নিচ্ছেন তখন। এই বুদ্ধের গায়ের রং, ঠোঁটের গঠন, চোয়াল ও নাসিকার সবতাতে আফ্রিকা বইছেন প্রবল!
প্রশ্ন হলো, পরবর্তী বুদ্ধমূর্তিতে রূপান্তর ঘটল কী কারণে? ইতিহাস বলে, বুদ্ধ মতবাদ তিব্বত হয়ে এশিয়ায় গমন ও প্রসার লাভ করায় বুদ্ধ মূর্তির প্রতিমায়ানে আসে যুগান্তকারী পরিবর্তন। কৃষ্ণ বুদ্ধ ক্রমশ ফ্যাকাশে থেকে একপ্রকার শ্বেতাভ সুরত ধারণ করেন। বুদ্ধের মুখমণ্ডল ভারী ও চওড়া থেকে রূপ নেয় প্রায় বর্তুল বা গোলাকারে। দেহের অবস্থান ও বিন্যাসে ধ্যানের সমাহিত মৌনতা ফুটিয়ে তোলার রীতিতেও আসে বিবর্তন এবং নতুনত্ব। সময়ের ধারায় লাফিং বুদ্ধার প্রতিমায়নও আমরা পেয়েছি, যেটি বুদ্ধ প্রচারিত বাণীর সম্প্রসারণ মানতে হবে।
একধরনের কালচারাল ডোমিনেন্স এভাবে তৈরি হয় বুদ্ধ মূর্তিকে ঘিরে। তাঁর অবয়বকে আফ্রিকান রীতি মেনে তৈরি করা মানহানিকর বলে বিবেচনার যুগ শুরু হয়। এই বুদ্ধ এখন মঙ্গোলিয়াড মুখাবয়ব ধারণ করে হয়ে উঠলেন গোলাকার ও হৃষ্টপুষ্ট। গান্ধার রীতি মেনে বুদ্ধ মূর্তি গড়ার ধারাকে এভাবে নতুন ন্যারেটিভের নিচে খতম করে দেওয়া হলো কার্যত। যেটিকে পরে আর কোনোভাবে পাদপ্রদীপে আসতে দেওয়া হয়নি।

আফ্রিকা এক হতভাগা মহাদেশ। অঢেল প্রাণবৈচিত্র্য, পূর্ব ও উত্তর আফ্রিকাজুড়ে বিকশিত নগর সভ্যতা, সাংস্কৃতিক অনন্যতায় সমৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও মহাদেশটি অবহেলিত ও ব্রাত্য থেকেছে চিরকাল। ধর্মীয় বিবরণ ও মিথরঞ্জিত ইতিহাসে কুশ তথা ইথিওপিয়াকে আমরা ফিরে-ফিরে অনুরণিত হতে দেখি, অথচ সভ্যতায় তার অবদান দেখেও না দেখার ভান করেন সকলে! কৃষ্ণ বুদ্ধের ঘটনা এই ধারাবাহিকতা মেনে সময়ের ধারায় অবলুপ্ত হয়েছিল! এ-কথা সত্য, বৌদ্ধ ধর্ম ও মতবাদ এশিয়ার বৃহৎ অংশে প্রভাববিস্তারী থেকেছে। আফ্রিকায় তাকে কেউ সেভাবে নিয়ে যায়নি। যেটি ঘটেছিল, সেটি হলো শিল্পরীতির বিনিময়।
আফ্রিকাবাহিত রীতি মেনে গড়ে উঠেছিল কৃষ্ণ বুদ্ধের ধ্যানমৌন সমাধিস্থ প্রতিমা। যথেষ্ট সুগম্ভীর ও ব্যক্তিত্বরঞ্জক এই প্রতিমায়ন। তাকালে গায়ে শিহরন জাগে। নুবিয়ান শিল্পরীতি জানত কীভাবে সময়কে পোড়া মাটি, পাথর ও ব্রোঞ্জে জমাট করতে হয়। ফারাওদের মূর্তি যার প্রমাণ হয়ে মিশরে আজো জেগে। রীতিটি বুদ্ধের প্রতিমায়ানে গান্ধার শিল্পীরা সফলভাবে কাজে লাগিয়েছেন তখন।
একুশ শতকে এর সবটাই বিচ্ছিন্ন সংযোগসেতুর মতো জাদুঘরে প্রত্নসামগ্রী রূপে পড়ে আছে। মানুষের পক্ষে যে-কারণে ভাবা কঠিন হয়ে পড়ে,—ধূসর অতীতে সিদ্ধার্থ গৌতম ওরফে শাক্যমুনি ভগবান শ্রীকৃৃষ্ণের মতো ঘোর কৃষ্ণবর্ণ ছিলেন। এমন এক আফ্রিকান, যিনি তাঁর ভারী চওড়া মুখমণ্ডল আর পুরু ঠোঁট ও চুলের ঠাসবুনোট গঠনে একজন ব্ল্যাক… কালা আদমি… এবং সুগম্ভীর মৌনতায় সমাহিত নির্বানে।
. . .
. . .


