এই ভাষাগত কাঠামো নাগরিক প্রতিরোধকেও দুর্বল করে। প্রতিরোধের জন্য তো প্রথম প্রয়োজন সঠিক নামকরণ। আসলে যে-সহিংসতাকে ‘বিক্ষোভ’ বলা হয়, তার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো কঠিন; যে-আক্রমণকে ‘ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ’ বলা হয়, তাকে অপরাধ হিশেবে চিহ্নিত করাই যেন অমানবিক মনে হয়। ফলে নাগরিক প্রতিবাদ বিভ্রান্ত হয়। কাকে প্রতিহত করা হবে, কীসের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে, সেই প্রশ্নেই বিষয়টি থমকে যায়।
-
-
অমিয় চক্রবর্তীর ‘সংগতি’র একখানা সারমর্ম আমরা পেলাম এখন। শহীদ কাদরী অ্যানকাউন্টার টানলেন,—মেলানোর আশা সহজ প্রাকৃতিক হলেও কোনো অঙ্কই অদ্য আর মিলবে না। নাতিদীর্ঘও নয় কবিতাটি;—যদি অমিয় চক্রবর্তীর পাশাপাশি তাকে রাখি। তার মধ্যেই ধরা পড়েছে মানব-ইতিহাসের লক্ষ বছরের আবর্তন। ধরা পড়েছে তার অবিরত গড়িয়ে পড়ার হাস্যকর পরিহাস।
-
আব্বার কাছে বয়সের ভারে ক্লান্ত এক লোক ব্যাগভরতি চা-পাতা নিয়ে আসতেন। কে তিনি, কোথায় থাকেন, কেন চা-পাতায় ব্যাগ বোঝাই করে হানা দিতে থাকেন বাসায়... এসব প্রশ্ন মনে জাগেনি কখনো। ব্যবসার কাজে লোকজন আব্বার কাছে আসছেন, যাচ্ছেন। বিশিষ্ট না হলে কার ঠেকা পড়েছে তাকে জানার! ভুলটি তখন করেছি। বুঝিনি, যাকে হেলায় খেয়াল করছি না, তাকে একদিন স্মরণ না করে উপায় থাকবে না। যেখানে, কত বিশিষ্টের নামধাম দূরের কথা, মুখটাও ভুলে বসে আছি বেমালুম!
-
বই আকারে কবিতাগুলো যদি বের করেন, সেক্ষেত্রে আপনার নিজস্ব একখান ব্যাখ্যা বোধহয় পরিশিষ্টে সংযুক্ত করা অন্তিম হয়ে দাঁড়াবে। অন্যথায় প্রথমপাঠে পাঠক ভাবতে পারে,—আপনি জীবনানন্দ দাশের স্বকীয়তাকে ডিরেক্ট কপি করছেন এখানে। গ্রুপে এর আগে যে-কবিতাগুলো দিয়েছেন, তার সঙ্গে তুলনায় যদি যাই, তাহলে সাম্প্রতিক দুটি কবিতায় জীবনানন্দ অধিক মাত্রায় তীব্র, এবং সে-কারণে চ্যালেঞ্জ বাড়ল আপনার!—পাঠকের কাছে জীবনানন্দের স্বর যে-এখানে বিশেষেভাবে বিনির্মিত,—সেটি প্রতিষ্ঠিত করা অতএব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াবে সামনে।
-
দিবারাতি তবু ঠোকাঠুকি হে মাবুদ, সোনালি ধানখেতে জবাই মানুষ রক্তের ছিটায় লাল মেঘের মিনার! চক্ষু মুদে তুমি কালঘুমে, উঠনের নাম নাই!