সুনীল-শীর্ষেন্দু-সমরেশরা যদি পরপর পাঁচটা লেখেন, তার চারটা দায় পূরণের খাতিরে তাঁদেরকে লিখতে হয়েছে, একটা-যে এর মধ্য দিয়েও বেরিয়ে আসেনি তা কিন্তু নয়। কমলকুমারের সঙ্গে পার্থক্য,—তিনি এই চাপ বুঝেশুনেই ঘাড়ে নেননি। মর্জিমতো লিখছেন। ছাপানো দরকার মনে হলে ছোটকাগজে ছেড়ে দিয়েছেন। লেখনক্রিয়াকে এভাবে উপভোগ করছেন কমলকুমার। সুনীলরা ওই কাজটা বড়ো পাঠকবৃত্তের খোরাক মিটাতে লাগাতার লেখা সরবরাহ করার মধ্য দিয়া সারছিলেন। প্রেক্ষাপট সুতরাং ভিন্ন। বৃত্ত ভিন্ন। এবং, এ-কারণে পাঠকের ‘মনোরঞ্জনের’ জন্য একটি অক্ষর কমলকুমার মজুমদার লেখেননি টাইপের কথাবার্তা এক্সপাঞ্জ করা উচিত।
-
-
আমিও তোমার অন্ধকার সমুদ্রের মতন/ তিমির দেখি; উদীচীরে চেয়ে হাঁটি/ দেখি, চারিদিকে হনলুলু সাগরের ঢেউ/ আমরা তো চেয়ে আছি তাই/ এখনও তোমার তিমির হননের গান/ ভালোবেসে...
-
প্রভুর দিকে চোখ মেলে চাইতে চায় সে প্রাণপণে। জীবনে শেষবারের মত শুনতে চায় ওর কাল্লু কিংবা বাঘা ডাকটা। ঝাঁপসা চোখে দেখতে পায় প্রভুপুত্র হাতের লাঠি ফেলে প্রচণ্ড ঘৃণাভরে উচ্চারণ করে ‘বাঘা’ নয়, ‘কাল্লু’ নয়, ‘শালার কুত্তা’! শালার শব্দটার সঙ্গে ওর পরিচয় নেই। মৃত্যু-মুহূর্তে কুত্তা শব্দটাকে বড়ো অশ্লীল মনে হয় ওর কাছে। মনে হয় পৃথিবীর নৃশংসতম ও অতি-ঘৃণিত একটা শব্দ ওটা। একটা কুত্তার জীবন কখনোই যাপন করতে চায়নি সে!
-
ধুলোয়, অসম্মানের নিচে চাপা পড়ে আছে/ আমার মর্যাদা, সাদা চোখে যা দেখে পৃথিবীর মানুষেরা,/ কিন্তু কেন আমি প্রকাশ করব লজ্জা আমার মুখমণ্ডলে,/ কী সম্মান দিয়েছে আমাকে এ পৃথিবী!
-
একটি নয় দুটি বাদুড় উড়ে যায় দূরে তোমার স্বোপার্জিত জ্যোৎস্নায়/ আমাদের ঘাসজল খাড়ুবিল প্রান্তর;/ সুরমার পারে শিশিরের ঘুম চায়/ আজ তাই, আমার কবিতায় তোমার প্রাদেশিক ঘাস।