থার্ড লেন-এর নতুন বিভাগ এআই বলছি-র আড্ডায় পাঠককে স্বাগতম। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে বিনিময়ী হওয়ার ভাবনা থেকে বিভাগটি চালু হলো। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে বিচিত্র বিষয় নিয়ে তর্কালাপ এই বিভাগে এখন থেকে নিয়মিত প্রকাশিত হবে। স্বাধীন ইচ্ছা ও বাস্তবতা নিয়ে থার্ড লেন টিমের সঙ্গে জিপিটি-4-এর আলাপ দিয়ে নতুন যাত্রা শুরু হলো বলে আমরা মনে করি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে মানবসত্তার এই কথালাপে পাঠককে সাদর আমন্ত্রণ।
-
-
আত্মপ্রকাশের প্রথম ধাপে ডিপসিকের বাজিমাতকে মার্কিন পুঁজিবাদের একচ্ছত্র আধিপত্য অবসানের আভাস হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। ডিপসিক দিয়ে তার প্রথম সিঁড়িতে চীন পা রাখল। আবির্ভাবের প্রথম প্রহরে তুলকালাম বাঁধানো ডিপসিক যদিও ম্যালওয়্যারের কারণে গ্রাহক নিবন্ধন আপাতত সীমিত করতে বাধ্য হয়েছে। ওদিকে আলীবাবার প্রধান জ্যাক মা ডিপসিক ও জিপিট-4-কে অনায়াসে টেক্কা দিতে পারবে এমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। জ্যাক মার এই ঘোষণা টেকজায়ান্টদের লড়াই সামনে আরো তীব্র ও বেগবান হওয়ার আভাস দিচ্ছে।
-
একজন কবি কায়িক সক্ষমতায় দুর্বল হতে পারেন, কিন্তু মানসিক উৎকর্ষ ধারণ করে এরকম কবিতা রচনায় তিনি হয়তো পটু। এখানে তার শ্রমমূল্য কীভাবে নির্ধারণ করবে সমাজ? অন্যদিকে একজন কৃষক ধান উৎপাদনে যে-খাটনি দিচ্ছেন, সেখানে তাকেও জল-মাটি-আবহাওয়া-জলবায়ুর ব্যাপারে জ্ঞানী ও সৃজনশীল হতে হচ্ছে। তার শ্রমমূল্য ও সামাজিক মর্যাদা কীভাবে নিরূপিত হবে? প্রথমটির উৎপাদন মূল্য দ্বিতীয়টির থেকে ভিন্ন। দুটির উপযোগিতাকে নিছক শ্রমমূল্য দিয়ে কাজেই গড় করা কঠিন।... উন্নত সমাজে কবি অধিক শ্রমমূল্যই পান কবিতা লিখে, যা হওয়া উচিত নয়। কাজেই পুরো বিষয়টি বেশ জটিল ধাঁধার জন্ম দিতে থাকে। সমাজতন্ত্র বাস্তবায়িত হয়েছে এমন দেশেও যার সুরাহা ঘটতে আমরা দেখিনি।
-
সংগীতের সেই পুরোনো সমালোচনা, যেখানে আবেগ প্রকাশে দেহের ব্যবহারকে কটাক্ষ করা হয়, একে সমর্থন দিতে হ্যান্সলিক ও গার্নি এই মতবাদ নিয়ে আসলেন,- সংগীতে দৈহিক আবেগের ব্যবহার তার মান ক্ষুণ্ন করে। এক্ষেত্রে তাঁদের দুজনের ওপর কান্টের প্রভাব লক্ষণীয়। কান্টের মতে সংগীতের দৈহিক প্রকাশ একধরনের ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে, যেটি সংগীতের শুদ্ধ ও সর্বজনীন আবেদনের পরিপন্থী। ... জনপ্রিয় সংগীত প্রধানত দৈহিক, অনিয়ন্ত্রিত আবেগের প্রকাশ,- তাদের জন্য হ্যান্সলিক ও গার্নির মতবাদ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতে, ক্লাসিক্যাল বা শাস্ত্রীয় সংগীতের বিমূর্ত কাঠামোকে উপলব্ধি করতে প্রয়োজন জ্ঞান ও প্রজ্ঞা। দেহ কেবল সুর শুনে, কিন্তু জ্ঞান সুরে নিমগ্ন হয়।
-
সমষ্টি এবং স্বত্ববিহীন রচনাপ্রক্রিয়াই কেবল মহাভারতের মতো আকরগ্রন্থ প্রসবের শক্তি রাখে। আমরা যে-যুগ বাস করি সেখানে এটা কোনোভাবে সম্ভব নয়। এমনকি অনেকজন মিলেও যদি এরকম কিছু লিখতে নামেন, দশকের-পর-দশ ধরে লেখনক্রিয়া জারি থাকে, একটা প্রসঙ্গের লেজ ধরে শত প্রসঙ্গ যুক্তও হয়, তথাপি মহাভারত সম্ভব নয়। যে-কালপর্বকে ধারণ করতে এই মহাগ্রন্থ বিরচিত, এবং সেখানে যেসব উপাদান সক্রিয়, তার মধ্যে ছিল মহাকাব্যিক ধ্রুপদি বিস্তারের সূত্র। অদ্য এর কমতি পড়ায় ওয়ার এন্ড পিস পর্যায়ের কিছু সৃষ্টি হইতে পারে, রামায়ণ, মহাভারত, ইলিয়াড, ওডিসি অথবা আরব্য রজনীর মতো সাহিত্য নাহি সম্ভব।