রবি ও আজাদের এই যৌথ বেঁচে থাকা ও ফিরে-ফিরে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠা প্রমাণ করে,—বাংলার মাটিকে চিরতরে আফগানিস্তান বানানোর মিশন সহজ থাকছে না। মিশন সফল হতে সময় লাগবে;—এবং তা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘ হওয়া বিচিত্র নয়। ভারতকে গজওয়াতুল হিন্দ বানানোর খোয়াবঘন বাসনার মতো বাংলাদেশকেও মুমিন মুসলমান করে তোলার ইমানি দিবাস্বপ্ন আখেরে দুঃস্বপ্নে মোড় নেওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
-
-
হয়তো কেউ কেউ কাঁদবে, আর কেউ দাঁড়িয়ে থাকবে অপ্রকাশ্য স্তব্ধতায়... আমার চিরবিদায় হোক খুব নরম, ঠিক ভালোবাসার নিশ্বাসের মতো— অদেখা, কোমল।
-
ময়ুখ চৌধুরীর কবিতায় সৃষ্টি, স্থিতি, বিলয় ও পুনরায় আর্বিভাবের জটিলতা কি তাহলে তাঁকে দিয়ে প্রতীকী দৃশ্যব্যঞ্জনা তৈরি করায়? হতেও পারে। কবি জানেন তা ভালো। আমি-পাঠকের কাছে তাঁর কবিতা এভাবেই পাঠযোগ্য ঠেকছে। তাঁকে রোমান্টিক ও ব্যক্তিবাদী ইত্যাদি শিরোনামে দাগানোর প্রবণতা অনলাইন ঘাঁটতে গিয়ে কিছুটা পেলাম বটে! ওসব ঢেরা-পেটানো অভিধায় কবিকে হয়তো দাগানো যায়, কিন্তু আমি-পাঠকের তাতে পোষাচ্ছে না বড়ো।
-
আসাম অঞ্চলে হাতি শিকার ও পোষ মানানো নিখাদ পেশায় রূপ নিয়েছিল সেইসময়। কঠিন এই পেশায় জীবনমৃত্যুর দোলাচল ছিল তীব্র! ভূপেন হাজারিকা গানটির সে-ইতিহাস বর্ণনা করেছেন বৈকি। পেট চালানোর তাগিদে ঝুঁকিপূর্ণ কাজটি করতে তখন দ্বিধা করেনি মানুষ! মাহুত বন্ধু গানের বিবরণে অনিশ্চয়তার দোলাচলটি এর রচয়িতা প্রতাপ বরণ রায় চিরভাস্বর করে রেখেছেন। ভাওয়াইয়ার সুরজালে সময়কে যেন বন্দি করেছেন লোকায়ত সংস্কৃতির মহান জনকরা।
-
পথের সারার্থ সময়ের সঙ্গে রং পালটায়। আমরা যেমন নিশ্চিত নই এখন,—বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ডের কোথায় দাঁড়িয়ে ঠিকঠাক! আমরা কি তাহলে রবার্ট ফ্রস্টের মতো দুই পথের মিলনস্থলে দাঁড়িয়ে? নাকি, জেমসের লেখা ও রককণ্ঠে ধ্বনিত একমুখী কোনো পথের সামনে আছি দাঁড়ানো? কেবল মনে হচ্ছে,—যে-পথেই দাঁড়িয়ে থাকি-না-কেন, সেই পথটি হতে চলেছে অন্তহীন কষ্ট ও হতাশার! ঈশ্বর জানেন,—অন্তবিহীন কি আছে/ এই পথের শেষে...।