কলিম খানরা এই ফাইট দিতে চেয়েছিলেন,—বাংলা বর্ণমালার একটি বর্ণও নিছক সিম্বলিক বা প্রতীকী নয়, যেমনটি আমরা ইংরেজি বা অন্য ভাষায় সচরাচর দেখে থাকি। প্রতিটি বর্ণ সুনির্দিষ্ট ক্রিয়া সম্পাদনের দায় মিটাতে গিয়ে উদ্ভুত হয়েছিল। সমাজে বর্ণগুলোর উৎপত্তি ও বিকাশ-বিবর্তন এই নিয়মছকে ঘটেছে। আজকে আমরা ধোপা বলছি, একসময় ধোপাও বলত না লোকজন;—তারা বলত ধোপ।
-
-
সৃষ্টি এখানে কেবল তাঁর অনন্যনির্ভর গুণের বিচ্ছুরণ। আলাদা করে এক-একটি গুণের সাহায্যে স্রষ্টাকে দায়বদ্ধ চিহ্নিত করা স্বয়ং তাঁর একত্বের বরখেলাফ। মানব জগতে ভালোমন্দ যা কিছু ঘটছে, এর সঙ্গে তাঁকে জড়িত করা যুক্তিসংগত নয়। তিনি হলেন আবশ্যিক অনন্যতা;—যেখান থেকে সৃষ্টির সূচনা ও বিস্তার ঘটছে। এই শর্তের বাইরে তাঁর কোনো ভূমিকা নেই।
-
আমরা অন্ধ সিভিলাইজেশনের পা ধরে দাঁড়িয়ে আছি— বাকহীন তামাশায়...
-
এসব কার্যকারণে সিলেট অঞ্চল সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে ফকিরে পরিণত হয়েছে। লোকসমাজের পাশাপাশি শিক্ষিত ও সংস্কৃতিমনস্ক শাহরিক সমাজ এই অঞ্চলে একদিন গড়ে উঠেছিল। কালের ধারায় সেখানে ছেদ পড়েছে। ইংরেজ ও পাকিস্তান আমলে বিকশিত শিক্ষিতশ্রেণিতে যারা ছিলেন, আজকে ওই মান ও উচ্চতার বিদগ্ধ মানুষ তন্ন-তন্ন করে খুঁজলেও পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। আয়ুব শাহীর আমলে রানী এলিজাবেথের উপহার ভাউচার সিলেটকে ক্রমশ বদলে দিলো।
-
মহসেন নামজু এখানে এসে ব্যতিক্রম হয়ে উঠছেন। কোরানের আয়াতকে গান-আঙ্গিকে পরিবেশন করতে যেয়ে সাউন্ড ডিজাইন ও বাদনকে যথেষ্ট ড্রামাটিক করে তুলেছেন নামজু। এহেন বাদনপ্রণালীকে মন্দ বলা যাবে না। তবে, আজব লেগেছে কণ্ঠের ব্যবহার! একাধিক আয়াতে নামজু তাঁর স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে কণ্ঠ উচ্চনাদে তুলেছেন;—ভৌতিক আবহ মনে জাগানোর জন্য পরক্ষণে নিচু ও খসখসে স্তরে নামিয়েও এনেছেন। এর ফলে কোরান তেলওয়াতে শ্রুত সূরা আদ দোহা বা আশ শামসের একঘেয়ে কিন্তু সুরেলা আবেশ আর বজায় থাকেনি। উলটো সার্কাস্টিক ফিলকে তা তীব্র করেছে! কেন? সে-কথাই ভাবছি, কিন্তু সুরাহা মিলছে না!