• দেখা-শোনা-পাঠ - পোস্ট শোকেস

    লেডি গাগা : “দ্য মাদার মনস্টার”

    সমাজের সঙ্গে গাগার সংলাপ সরাসরি। মুখাবরণ-এ (Aura) মর্মরিত ভাষায় তাঁকে কি আমরা বলতে শুনিনি : Do you wanna see the girl who lives behind the aura? বোরখার আড়ালে যে-নারীদেহ রয়েছে, তাকে দেখতে চাও তুমি? গাগা এখানে বন্দুক হাতে বোরখায় নিজের মুখ আড়াল করছেন। পিছনে সক্রিয় যৌনহিংসার ইঙ্গিত। গানটিকে জেন্ডার প্যারোডি না-বলে উপায় থাকে না। বোরখা সেখানে পবিত্র শালীনতার চিহ্ন হওয়ার পরিবর্তে ফেটিশ অবজেক্টে মোড় নিতে থাকে। আচ্ছাদনকে এক্ষণে প্রতিশোধ চরিতার্থের হাতিয়ার করছেন গাগা।

  • নেটালাপ - পোস্ট শোকেস

    বই পড়া ও না-পড়ার ফজিলত-১

    পাঠক টের পান—যা লেখা হয়নি, তার মাঝেই নিহিত থাকে পাঠের সবচেয়ে গভীর অর্থ। অলিখিতই হয়ে ওঠে জাগ্রত বাক্য। অবশেষে আসে এক নীরব উচ্চতা—যেখানে শব্দ ফুরিয়ে যায়, অর্থ ঝরে পড়ে, কেবল অনুভবের আলো জেগে থাকে। পাঠক বুঝে নেন—পাঠের চূড়ান্ত অর্থ কোনও উত্তর পাওয়া নয়, বরং উত্তরহীনতার সঙ্গে মৈত্রী স্থাপন করা। টের পান, প্রতিটি বই আসলে একটিই বই; মহাকালের প্রান্তরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এক অসীম, অসমাপ্ত পাণ্ডুলিপি।

  • পোস্ট শোকেস - সাহিত্যবাসর

    জীবনানন্দ, তোমাকে ভেবে-৩ : হেলাল চৌধুরী

    আমিও তোমার অন্ধকার সমুদ্রের মতন/ তিমির দেখি; উদীচীরে চেয়ে হাঁটি/ দেখি, চারিদিকে হনলুলু সাগরের ঢেউ/ আমরা তো চেয়ে আছি তাই/ এখনও তোমার তিমির হননের গান/ ভালোবেসে...

  • আসুন ভাবি - পোস্ট শোকেস

    “অতিরিক্ত অস্তিত্ব”-এ নাবিল সালিহ-র ফিলিস্তিন-২ : মোস্তাফিজুর রহমান জাভেদ

    এই আলোকে গাজাকে ব্যতিক্রমী পরিসর গণ্য করা উচিত;—একটি গহ্বর, যেখানে ইসরায়েল ‘যৌক্তিকতার’ নাম করে যা ইচ্ছা তাই ছুড়তে পারে। কেননা, এটি অন্যান্য অতিভৌগোলিক পরিসরের মতো নয়, এই গহ্বরের তলদেশে রয়েছে অ-সত্তা বা অস্তিত্বহীন জনসমষ্টি, যাদের আর্তনাদ শোনা যায় না, আর তাদেরকে মেরে ফেলাটা স্বাভাবিক করে তোলা হয়েছে।

  • পোস্ট শোকেস - সাহিত্যবাসর

    “কুত্তা” : কামাল রাহমান

    প্রভুর দিকে চোখ মেলে চাইতে চায় সে প্রাণপণে। জীবনে শেষবারের মত শুনতে চায় ওর কাল্লু কিংবা বাঘা ডাকটা। ঝাঁপসা চোখে দেখতে পায় প্রভুপুত্র হাতের লাঠি ফেলে প্রচণ্ড ঘৃণাভরে উচ্চারণ করে ‘বাঘা’ নয়, ‘কাল্লু’ নয়, ‘শালার কুত্তা’! শালার শব্দটার সঙ্গে ওর পরিচয় নেই। মৃত্যু-মুহূর্তে কুত্তা শব্দটাকে বড়ো অশ্লীল মনে হয় ওর কাছে। মনে হয় পৃথিবীর নৃশংসতম ও অতি-ঘৃণিত একটা শব্দ ওটা। একটা কুত্তার জীবন কখনোই যাপন করতে চায়নি সে!